বাম জোটের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা হাতাহাতি, আহত ৩০

একাদশ সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিনে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিলে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে হাইকোর্টের কাছে কদম ফোয়ারা ও মত্স্য ভবনের মোড়ে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ  ডেকেছে বাম জোট। বাম জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের হামলায় জোট নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকীসহ ২৫-২৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, বাম জোটের নেতাকর্মীদের হামলায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। দুই পক্ষের দাবি অনুযায়ী মোট ৩০ জনের মতো আহত হন।

একাদশ নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীর দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে      পালনের ঘোষণা দিয়ে গতকাল ঢাকাসহ জেলায়-জেলায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি পালন করে বাম জোট। কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশের পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা হন বাম জোটের নেতাকর্মীরা। পথে কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে তারা এগিয়ে যান। বেলা ১টার দিকে মত্স্য ভবনের সামনে আবার বাধার মুখে পড়েন বাম জোটের নেতাকর্মীরা। তারা সেখানকার ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে মিছিল থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে মারার অভিযোগ করে পুলিশ বাম জোটের নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এসময় মত্স্য ভবন মোড় থেকে প্রেসক্লাবের দিকে যান চলাচল প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সিপিবি নেতা ক্বাফী রতন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের হামলায় জোটের নেতা সাইফুল হক ও জোনায়েদ সাকীসহ ২৫-২৬ জন  আহত হয়েছেন। তারা সবাই ঢাকা  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। মিছিল থেকে যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আনোয়ার সজ্জন ও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা জুবায়ের আহম্মেদ সজল, ক্ষেতমজুর সমিতির কর্মী ওয়াহিদুজ্জামান ও বাসদের কর্মী তামিমকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানান ক্বাফী রতন।

ডিএমপি রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তাদের অনুরোধ করেছিলাম যেন ব্যারিকেড না ভাঙে। কিন্তু তাদের  নেতাকর্মীরা কথা শোনেননি। তারা প্ল্যাকার্ডের সঙ্গে থাকা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। পরে আমাদের পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন দুজন। আমরা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। রমনা থানার ওসি মনিরুল  ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চার-পাঁচ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।

সংঘর্ষের আগে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নতুন সমন্বয?ক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু অংশ নেন। সমাবেশে সিপিবি সভাপতি বলেন, ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে  যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে, তাকে ভুয়া সরকার ছাড়া আর কিছু বলে আখ্যা দেওয়া যায় না। গণআন্দোলনের মুখে সরকারের পতন ঘটিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাইফুল হক বলেন, বিরোধী দলকে দমন করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস লেলিয়ে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মৃত্যু হয়েছে, নৈতিক পরাজয় হয়েছে। বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোই এখন প্রধান রাজনৈতিক কর্তব্য।