সবার প্রিয় সান্তা ক্লজ

জিঙ্গেল বেল জিঙ্গেল বেল মিউজিকের তালে তালে শহরের পাড়া-মহল্লার বর্ণিল সাজসজ্জা, চমত্কার সব গিফট আর বাহারি সব পোশাকের সাথে ক্রিসমাস ট্রি সবাইকে মনে করিয়ে দেয় বড়দিনের কথা। আর বড়দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তুষারশুভ্র দাড়িমণ্ডিত আর লাল জামা টুপি পরিহিত নাদুস নুদুস হাসিখুশি সান্তা ক্লজ। যার হাতে থাকে লাল সাদা ঝোলা। কী আছে সেই ঝোলার ভেতর তা জানার কৌতূহল আমাদের সবার। সান্তাকে দেখলেই মনে হয় যেন কয়েক শ’ বছর বয়স্ক এক দাদু। প্রতি বছর তিনি উত্তর মেরু থেকে তাঁর বলগা হরিণে টানা Sledge গাড়িতে চেপে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে উপহার দিয়ে আসেন। কিন্তু কে এই সান্তা ক্লজ?

সান্তা ক্লজের ইতিহাস ঘাঁটতে গেলে চলে আসে St. Nicholas নামটি। Nicholas ২৭০ খ্রিস্টাব্দে তুরস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু একজন মানুষ। লোকগাথা অনুসারে একবার এক দরিদ্র বাবা তার তিন মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না শুনে Nicholas একদিন রাতে সকলের চোখের আড়ালে ওই ঘরের জানালা দিয়ে তিন থলে মুদ্রা ওই ঘরে ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর বিভিন্নভাবে তার আরো অনেক দয়ালু ও মহানুভবতার গল্প ছড়িয়ে পড়ে।

Pasqua Epiphania নামের দাদিমা বলে একজনের রূপকথার গল্প ছড়িয়ে যায়। সেটাও মূলত St. Nicholas-এর মতোই মহানুভব প্রমাণ করার চেষ্টায়। সে গল্পগুলোতে এক দাদিমা শিশুদের জন্য মোজার মধ্যে উপহার রেখে দিতেন। ৬ ডিসেম্বর Nicholas মারা যান। তাঁর অনুগামীরা সেই থেকে নিজেদের মধ্যে উপহার দেয়া শুরু করে। এর কিছুদিন পর Nicholas-এর এই অনুগামীরা জার্মান ও আয়ারল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। জার্মানরা odin-এর উপাসনা করত। odin ছিল তুষার শুভ্র লম্বা দাড়ির অধিকারী। প্রতি বছর তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়ে আট পা-ওয়ালা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে স্বর্গ থেকে আসতেন। সেই ঘোড়াগুলোকে খাবার দিতে জার্মানরা তাদের জুতোয় গাজর, খড়, মিষ্টি রেখে দিত। তাদের বিশ্বাস ছিল ঘোড়াগুলো সেই খাবার গ্রহণ করত।

১৮০৯ সালে Washington Irving তাঁর এক প্রহসনে সান্তার বর্ণনা দেন। ১৮২২ সালে অধ্যাপক Clement Clarke Moore সান্তা ক্লজকে নিয়ে ‘The Night Before Christmas’ নামে একটি কবিতা লেখেন। সেখানে তিনি সান্তা ক্লজকে আটটি বলগা হরিণে টানা Sledge গাড়িতে চাপিয়ে দেন। ১৯২০ সাল থেকে cocacola সান্তা ক্লজ-কে তাদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছিল। ১৯৩০ সালে কোকাকোলা কর্পোরেশন সুইডিশ শিল্পী Haddon Sundblom-কে কোক পানরত সান্তা আঁকার দায়িত্ব দেন। ১৯৩১ সালে তিনি তাঁর সদাহাস্যমুখর এক বন্ধুকে মডেল করে তাঁর গায়ে কোকাকোলার লাল বর্ণ লাগিয়ে সান্তারূপে সাজিয়ে দেন। কোকাকোলা কোম্পানি সেই বছর থেকে বিপুল লাভ করতে শুরু করে। তবে সান্তার দেহের গঠন ও মুখের ভাব দেখে বোঝা যায় হাস্যমুখর ভোগবিলাসী তৃপ্ত মানুষ।

বর্তমান সময়ে সান্তা কোকাকোলা নয়, সবার প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছে। বহু বাড়িতে আজও যিশুর জন্মের রাতে একটা মোজা রেখে দেয় ছোটরা। বাড়ির বড়রা তাদের সান্তা সেজে উপহার দিয়ে আসে। পৃথিবীর অনেক দেশেই আবার সান্তার উদ্দেশে কিছু উপহার চেয়ে সেটা লিখে চিঠি দেয়ার একটা চল আছে। সে যা-ই হোক সান্তা রূপকথা থেকে বাস্তবে অবাধ যাতায়াত করছে। বহু হতদরিদ্র মানুষ আজও সান্তার কাছ থেকে খাবার ও উপহার পেয়ে খুশি হয়। সান্তা সবার মন খুশিতে ভরিয়ে দিয়ে বড়দিন বা Christmas শুরু করে।