বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন

বাংলা বানান নির্ভুলভাবে চর্চা করার জন্য করণীয়

পর্ব-০১

আমরা ইংরেজি বানানে সামান্য ভুল করলে যতটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাই, বাংলা বানান ভুলের বেলায় তার উল্টোটা দেখাই । বড়ো একটি সমস্যা হলো, বাংলা ব্যাকরণ শেখানো হয় ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে। English grammar ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে শেখানোর কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত/সহায়ক পাঠ হিসেবে পড়ানো হয়ে থাকে । সেখানে Grammar-এর পাশাপাশি আরও কিছু শেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলা ব্যাকরণ শেখা কঠিন হয়ে যায়।

বানান ভুল হওয়ার কারণসমূহ :

১. পাঠ্যপুস্তকসহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের বানান দেখতে দেখতে মানুষের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে  যায় ।

২. শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক মানসম্মত উপায়ে বানানের নিয়ম হয় শেখাচ্ছেন না অথবা শিক্ষার্থীরা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে না।

৩. যে-কোনো কারণেই হোক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময় ভুল বানানের জন্য নম্বর কর্তনের ব্যাপারটা যথাযথভাবে করা হচ্ছে না।

সবার পক্ষে শুদ্ধ বানান চর্চা করার জন্য সব কঠিন নিয়ম শেখা সম্ভব নয়। তাই নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে শুদ্ধ বানান চর্চা শতভাগ না হলেও অনেকাংশেই হয়ে যাবে:

১. নোটারি পাবলিক অফিসের মতো প্রত্যেক উপজেলাতে বানান শুদ্ধিকরণের জন্য একজন

কর্মকর্তা নিয়োজিত করা যেতে পারে ।

২. স্থায়ী বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড, প্রতিষ্ঠানের নাম, দেয়াল লিখন ইত্যাদি তৈরি করতে গেলে উপজেলার  উক্ত কর্মকর্তার নিকট থেকে নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে বানান ঠিক করে সনদ গ্রহণের ব্যবস্থা করা  যেতে পারে ।

৩. ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভুল বানানের অভিযানও চালানো যেতে পারে । সনদ না থাকলে  যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে ।

৪. কমিটি করে প্রত্যেকটা পাঠ্যপুস্তকের বানান শতভাগ নির্ভুল করা যেতে পারে ।

৫. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, শিক্ষা বোর্ড, টেলিভিশন চ্যানেল, ছাপানো পত্রিকাসহ অনলাইন পত্রিকার কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে বানান বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে । ভুল বানানের জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারলে ভালো হয়।

উপকারসমূহ:

১. সব জায়গায় একই রকম শুদ্ধ বানান দেখতে দেখতে একসময় মানুষের ভুল করার সম্ভাবনা প্রায়  শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে।

২. বানানের এত নিয়ম সকলের না জানলেও চলবে।

৩. আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষার প্রতি মর্যাদাও রক্ষা হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সময়ের সাথে সাথে ভাষা ও বানান পরিবর্তনশীল। তাই বাংলা একাডেমির সর্বশেষ নিয়মগুলো অনুসরণ করাটাই যুক্তিযুক্ত হবে। ভাষা নিয়ে ভাসাভাসা জ্ঞান থাকলে সে ভাষা ভেসে যাবে ।