ফেডারেশন কাপ ফুটবলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম আবাহনী এখন গ্যালারির দর্শক। বড়ো বাজেটের এসব দলকে ছাপিয়ে আজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে মোহামেডান এবং রহমতগঞ্জ। আগামীকাল বসুন্ধরা কিংস ও পুলিশ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে।
মোহামেডানের জন্য অন্যরকম একটি দিন আজ। গত মৌসুমে গ্রুপ থেকেই বিদায় নিয়েছিল। এবার সেমিফাইনালেরও আশা ছিল না। লিগের পারফরম্যান্সের ওপর চোখ রেখে টুর্নামেন্ট খেলতে নেমেছিল মোহামেডান। সেই মোহামেডান আজ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলছে। যারা মোহামেডানের খেলাগুলো দেখেছেন তাদের মনে আশা জাগিয়েছে। অনেকেই বলছেন ফাইনালের টিকিট নিয়ে ঘরে ফেরবে মোহামেডান। আর মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শেন লিন ফাইনালে যাওয়ার কথা না ভেবে আরো ভালো খেলে ম্যাচটা জয় করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘যদি ভালো খেলে ম্যাচ জয় করা যায় তাহলে আমাকে রাখবে কোথায়? ফাইনালের মঞ্চে তুলবে এইটাই তো। ডি গ্রুপে মোহামেডান ফেয়ার প্লে খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ২-০ গালে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। ৬০ দশকের ডিজাইনে সাদাকালো জার্সিতে মোহামেডান দারুণ পারফরম্যান্স করছে। এ খেলা যদি ধরে রাখতে পারে তাহলে আরো ভালো কিছুর দেখা পেয়ে যাবে মোহামেডান। কদিন আগেও মোহামেডানের বিপক্ষে খেলা হলে প্রতিপক্ষ দলগুলো ধরেই নিত পুরো পয়েন্ট পাবে। কিন্তু এবার ফেডারেশন কাপ ফুটবলে সেসব মুখে কুলুপ দিয়েছেন মোহামেডানের নাইজেরিয়ান আমাদি, মনেকা, জাপানের ইউরী নাগাতা, ফরাদ মনা, মালীর দিবাতে, সোহাগ, মিঠু, সোহানুর রহমান, আমির হাকিম বাপ্পীরা। অখ্যাত সব ফুটবলার হলেও তারা বেশ পরিশ্রমী। সব কিছু উজাড় করে লড়াই করছেন। কঠিন পরিশ্রম করছেন দলের কোচ শেন লিন। তার হাতে খেলোয়াড়দের ফিটনেস সবার চোখে পড়ার মতো। ঢাকার ক্লাবগুলোর অন্য বিদেশি কোচদের তুলনায় মোহামেডান কোচকে তেমন কোনো সুবিধা না দিলেও নিজ উদ্যোগে দলটাকে তৈরি করার চেষ্টা করছেন। বললেন, ‘আমি তো লিগ টার্গেট করে এগিয়ে যাচ্ছি। ফেডারেশন কাপ ফুটবল ছিল আমার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচ। প্রস্তুতি নিয়েই থাকতে চাই।’
মোহামেডানের প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জ তো ভাবতেই পারেনি তারা সেমিফাইনালে উঠবে। দলের তরুণ কোচ গোলাম জিলানী মাত্র স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে এবারের টুর্নামেন্টে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু কোয়ার্টার পাইনালের গণ্ডি পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠবেন এটা কখনো মুখ খুলে বলেননি সাবেক ফুটবলার এবং দলের কোচ জিলানী। কোয়ার্টার ফাইনালে টুর্নামেন্টের টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছে রহমতগঞ্জ। পিছিয়ে থাকা রহমতগঞ্জ খেলার শেষ মুহূর্তে গোল শোধ করে ম্যাচটা টানতে টানতে টাইব্রেকারে নিয়ে গেছে রহমতগঞ্জ। সেখানে ফিফটি ফিফটি চান্স। ভাগ্য ভালো যাদের তারাই পেরিয়ে যাবে, ভাগ্য রহমতগঞ্জের পক্ষেই ছিল। টাইব্রেকারে আবাহনীর সব দক্ষ ফুটবলার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ২০১৫ সালের এই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে মুক্তিযোদ্ধার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল আবাহনী। রহমতগঞ্জকে কোনোভাবেই পিছিয়ে রাখছে না মোহামেডান। আর রহমতগঞ্জও কোনোভাবেই মোহামেডানকে আগের মোহামেডান মনে করছে না। নতুন করে জেগে উঠা মোহামেডান নতুন রূপে লড়াই করবে। অগ্নিমূর্তি দেখাতে চায় রহমতগঞ্জ।
আজ প্রথম সেমিফাইনাল
মোহামেডান ও রহমতগঞ্জ, বিকাল ৪টা।