রাত ১টা ২০ মিনিটে চিলহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে যশোর রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যায়। শীতের রাতে স্টেশন ফাঁকা হয়ে গেলেও কিছু মানুষ থেকে যান। যারা গুটিশুটি হয়ে ছেঁড়া কাঁথা কম্বল জড়িয়ে ঘুমে আচ্ছন্ন, খুব নীরবে সন্তর্পণে ঐ মানুষগুলোর গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিতে শুরু করলেন কিছু তরুণ-তরুণী। ঘটনাটি থার্টিফার্স্ট নাইটের বা বলা যায় ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরের। এভাবেই ‘থার্টিফার্স্ট নাইটের’ ব্যতিক্রমী উদ্যাপন করল আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা।
সংস্থার সদস্যরা জানালেন, ‘থার্টিফাস্ট নাইট’-এ যখন সবাই আতশবাজি পুড়িয়ে আর ভূরিভোজে ব্যস্ত, তখন তারা মাঠে নেমেছেন শীতার্তদের মাঝে একটু উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে সীমান্ত ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে মিশেই প্লাটফরমে অবস্থান করছিলেন ১৫-২০ জন তরুণ। তাদের গায়ে তিন-চারটি করে কম্বল জড়ানো। যাত্রীরা ট্রেনে চলে যাওয়ার পর ঘুমিয়ে থাকা শীতার্ত মানুষগুলোর গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন তারা।
শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক সহসভাপতি হারুন আর রশিদ জানান, আইডিয়া প্রতিবছরই এভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। এসব মানবিক কাজের মধ্য দিয়েই তারা থার্টিফার্স্ট বা নববর্ষ উদযাপন করেন।
আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি স্কুলশিক্ষক শাহারিয়া ইয়াসমিন মীম জানান, শুধু শীতবস্ত্র বিতরণই নয়; সারাবছরই তারা নিজেদের অর্থে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবিক কাজ করে থাকেন।
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা যশোর সরকারি এম এম কলেজের সমাজবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক জানান, আইডিয়ার একদল স্বেচ্ছাসেবী আছেন। তারা সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। থার্টিফার্স্ট নাইটে শতাধিক শীতার্তের গায়ে কম্বল জড়িয়ে তারা এই দিনটি উদ্যাপন করেছে।