বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস চত্বর ছেড়েছে বিক্ষোভকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পর বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ছেড়েছে বিক্ষোভকারীরা। ইরানপন্থিদের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ায় ইরানকে চরম মূল দিতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে অতিরিক্ত সাড়ে ৭শ’ সৈন্য পাঠানোরও ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরই দূতাবাস চত্বর ছেড়ে চলে যায় বিক্ষোভকারীরা। অথচ গতকালই বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘমেয়াদে বিক্ষোভের প্রস্তুতির কথা বলেছিল। গতকাল মার্কিন সৈন্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস এবং স্টান গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে। খবর বিবিসি ও আল-জাজিরার

মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছে ইরাকের হাশদ আল শাবি বা পপুলার মডার্নাইজেশন ফ্রন্ট নামের প্যারামিলিটারি গ্রুপ। গতকাল সংগঠনটি বিক্ষোভকারীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এক বিবৃতিতে ফ্রন্ট জানায়, যা দেখানোর কথা ছিল তা দেখানো হয়ে গেছে। এখন গ্রিন জোনের বাইরে অবস্থান করতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে বাগদাদের ‘গ্রিন জোন’-এ মার্কিন দূতাবাসের দিকে যায় এবং দূতাবাসের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তারা দূতাবাসের একটি অংশে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েক দিন আগে একটি আধাসামরিক বাহিনীর কয়েক জন সদস্য মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার জের ধরে হাজার হাজার মানুষ বাগদাদের পথে নামেন। আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ কয়েক জন সিনিয়র মিলিশিয়া ও প্যারামিলিটারি নেতা শোভাযাত্রাকারীদের সঙ্গে হেঁটে গ্রিন জোনের দিকে যান। ঐ এলাকায়ই ইরাকের অধিকাংশ সরকারি অফিস ও বিদেশি দূতাবাস অবস্থিত।

ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের ঐ জোনে প্রবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাইরে রাস্তায় সমবেত হওয়ার সুযোগ দেয়। ইরান-সমর্থিত কাতাইব হিজবুল্লাহর ওপর মার্কিন হামলা হয় গত রবিবার। এতে অন্তত ২৫ ব্যক্তি নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর ওপর রকেট হামলার পালটা জবাব দিতেই তারা ঐ বিমান হামলা চালিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শিয়া আধা সামরিক বাহিনী কাতাইব হিজবুল্লাহর ওপর মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

‘চরম মূল্য দিতে হবে ইরানকে’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন দূতাবাসে হামলার পেছনে ইরান রয়েছে। ট্রাম্প টুইটারে এক পোস্টে লেখেন, যে কোনো প্রাণহানি ও দূতাবাসের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে। এটা কোনো সতর্কবাণী না, এটা একটা হুমকি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জানিয়েছেন, আরো ৭৫০ জন মার্কিন সৈন্য সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইরাকের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫ হাজার সৈন্য মোতায়েন আছে।

ইরানের খামেনির জবাব

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ‘ইরান যদি কারো সঙ্গে চ্যালেঞ্জ কিংবা যুদ্ধ করতে চায়, তাহলে সরাসরি করবে। আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে ইরানের স্বার্থ ও মর্যাদা টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। কেউ যদি আমাদের হুমকি দেয়, তাহলে আমরা কোনো চিন্তা না করেই তার বিরুদ্ধে লড়াই করব।