স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি ----------দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘ক্যাসিনো কাণ্ড নিয়ে অনেক কথা হয়। ক্যাসিনো ব্যবসা কিন্তু দুদক আইনের তপশিলভুক্ত অপরাধ নয়। তবে ক্যাসিনো ব্যবসা করে যে বা যারা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, সেটা দুদক আইনে তপশিলভুক্ত অপরাধ। ঠিক এ কারণেই আমরা অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘দুর্নীতি দমনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের ইংরেজি নববর্ষ ও মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পেছনে প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি। এই দুর্নীতির মাত্রা যতটা কমিয়ে আনা যায়, সেটাই হবে মুজিববর্ষে আমাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম কাজ।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘটে যাওয়া দুর্নীতির তথ্যের সবচেয়ে বড়ো উত্স হচ্ছে সংবাদপত্র, অন্য কোনো সংস্থা নয়। আমরা আমাদের এই কর্মপ্রক্রিয়া থামাব না। এটা চলবে।  দুর্নীতিপরায়ণদের যতক্ষণ না পর্যন্ত আইনের আমলে আনতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের তাড়া করব।’

ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে যদি আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো দোষ-ত্রুটি খুঁজে পান তা নিয়েও সংবাদ প্রকাশ করবেন। জনগণকে জানাবেন। কারণ দুদক জনগণের প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিক ছাড়া দুদকের অস্তিত্ব দৃশ্যমান নয়। আপনারা আমাদের শত্রু নয়, বরং সহযোগী বা সহযাত্রী। আমরা সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করি।’

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন দুদকের কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত, দুদকের প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল ও রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের (র্যাক) মহাসচিব আদিত্য আরাফাত।