এক বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানার দণ্ড নিয়ে এক আসামি ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না। ভুক্তভোগী বাদী আসামির অবস্থান পুলিশকে জানালেও পুলিশ বলছে, আমরা অসহায়। করার কিছুই নেই।
মামলার ভুক্তভোগী বাদী প্রকৌশলী দেওয়ান শামসুল হুদা। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ একটি মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ১২ নম্বর রোডের ৮৬১ নম্বর বাড়ির ৩/বি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মুসরাত জাহানকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করে। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রাজধানীর পল্লবী থানায় পাঠিয়ে দেয় আদালত। বাদী পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, পুলিশ অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে পুলিশ পারছে না—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী বাদী আদালতে পেশ করেন। এর প্রেক্ষিতে জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসারের আদালত পিডিআর অ্যাক্টে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মালামাল ক্রোকের আদেশ দেয়। এই আদেশনামা পল্লবী থানায় গেলেও পুলিশ তা ব্যর্থ হয়। ভুক্তভোগী বাদী উপায় না পেয়ে পুলিশের আইজি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী বাদী অভিযোগ করেন, উপায় না পেয়ে আসামি একটি শক্তিশালী চক্রের সহায়তায় গত বছরের ৯ জুন বগুড়ার আদমদীঘি এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে। অপহরণ করে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। একটি ভবনে দুই দিন আটকে রাখে। আসামিকে গ্রেফতার না করা এবং মামলার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার অঙ্গীকার করার পর তাকে হাত-মুখ-চোখ বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে মুক্তি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী বাদী আরো অভিযোগ করেন, এই সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামির বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ঐ অনুষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করার অনুরোধ পুলিশকে জানালে, পুলিশ বলছে, তাদের করার কিছুই নাই।
এ ব্যাপারে পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি মুসরাত জাহানকে গ্রেফতার করার জন্য তার ডিওএইচএস এলাকার ফ্ল্যাটে অন্তত শতাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু ঐ নারী এতটাই চালাক যে, প্রতিবারই সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টায় আমরা আছি। পেলেই গ্রেফতার করা হবে।