বিষে ভরে গেছে ঢাকার বাতাস। নদী দখল হয়ে গেছে। খাল দখল করে বাড়িঘর করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার জায়গা নেই। মফস্বল শহরেও সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা। এতে পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ পরিবেশদূষণে বেশি ক্ষতির শিকার। দায়ী কে? দূষণের জন্য দায়ী গাড়ির কালো ধোঁয়া। বাস, প্রাইভেট কারের মালিক কিন্তু আপনার আমার মতো কেউ। আমরা কেন আমাদের গাড়ি দিয়ে পরিবেশ দূষণ করি? ফিটনেস নেই—এমন গাড়ি কেন ব্যবহার করি? ডাস্টবিন আছে। আমরা ময়লা ফেলি এখানে সেখানে। খাল ভরাট করে কারা বাড়ি করেছে? আমরাই তো! সবাই জানি, গাছ লাগালে অক্সিজেন উত্পাদন হবে। কিন্তু আমরা যতটা না বলি, কাজ করি তার চেয়েও কম। বারান্দা হয়ে গেছে স্টোর রুম। পোকামাকড়ের বসতি। কেন সেটা অক্সিজেন ফ্যাক্টরি হচ্ছে না? ফল-ফুল-সবজির গাছ বারান্দায় অনায়াসে হয়। নিজেদের, সন্তানদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে। পরিবেশদূষণ উন্নত দেশেও হয়। কিন্তু সেখানে ব্যক্তি মানুষ সচেতন। ব্যক্তি পরিবেশদূষণ করে না। আর কোনোভাবে পরিবেশ দূষণ করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। আমাদের দেশে ব্যক্তি পরিবেশদূষণ করে। পরিবেশদূষণ করলে বিচারের ব্যবস্থা হয় না। পরিবেশদূষণ বন্ধে সরকারি সংস্থাগুলো ঠিকভাবে কাজ করে না। সরকার পলিসি দেবে। মনিটর করবে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। যেন কোনোভাবেই পরিবেশের ক্ষতি না হয়। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব ভেবে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকি। ব্যক্তি মানুষ পরিস্থিতি পালটে দিতে পারে। তাই ২০২০—এ বছরে আমরা যে পরিবেশ সচেতন, কাজে তার প্রমাণ দিতে হবে। মুখরোচক কথা, সভা, সেমিনার অনেক হয়েছে। এবার কাজ দরকার।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
বনানী, ঢাকা