সাহিত্যিক শওকত ওসমান স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, তিনি আমাদের জাতির বিবেক। অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়তে তার রচনা আমাদের পাথেয়। তিনি ছিলেন প্রগতিবাদী ও রাজনীতি সচেতন, অসাম্প্রদায়িক একজন আধুনিক মানুষ। বাংলা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় ছিল তার অবাধ বিচরণ। তিনি তার সাহিত্যে ক্ষমতাধরদের অত্যাচার ও নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করেছেন অত্যন্ত নিপুণভাবে। গতানুগতিক ধারাকে পাশ কাটিয়ে সাহিত্যে তিনি নতুনমাত্রা যুক্ত করেছেন। গতকাল শওকত ওসমানের ১০৩তম জন্মজয়ন্তীতে শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আলোচনায় অংশ নেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও সময় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপু সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। অনুষ্ঠানের আগে শওকত ওসমানের ওপরে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, তিনি ছিলেন জাতির শিক্ষাগুরু। তার কাছ থেকে জীবনের পাঠ নিত জাতি। তার লেখার মতই সরস। ‘শেখের সম্বরা’ লিখেছেন সরস ভঙ্গীতে। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার চেতনাজুড়ে। তার ‘জননী’ উপন্যাস ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। শওকত ওসমান আজও শেষ হয়ে যাননি। তার রচনা আজও আমাদের আগামীর পথচলায় প্রাসঙ্গিক।
ফরিদ আহমেদ জানান, ষাটের দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ছিলেন শওকত ওসমান। শওকত ওসমান রচনাসমগ্র আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বইমেলায় প্রকাশিত হবে।