এবার আসেনি বিন্নাদিঘিতে অতিথি পাখি!

এক সময় অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত ছিল নীলফামারীর বিন্নাদিঘি। ভ্রমণ পিপাসুরা অতিথি পাখি দেখে আনন্দে আত্মহারা হতেন। কিন্তু উলটো চিত্র এবার সেই বিন্নাদিঘিতে। শীত আসলেও পাখি নেই, বেড়েছে দর্শনার্থীর পদচারণা।

বিশিষ্টজনেরা বলছেন, পাখি না থাকার কারণ দর্শনার্থীদের উত্পাত। পাখিরা নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। যেখানে মানুষের কোলাহল থাকে, সেখানে অতিথি পাখিরা আসতে ভয় পায়।

জানা গেছে, জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গায় ৩৭ একর জমির ওপর খনন করা হয় নীলসাগর দিঘি। যা ১৯৯৮ সালে নীলফামারী জেলার নামানুসারে এই দিঘির নামকরণ করা হয় নীলসাগর। নীলসাগরের আদি নাম বিন্নাদিঘি। ঐ সময়ে এই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়।

প্রতি বছর এখানে দূর-দূরান্ত সাইবেরিয়া থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির আগমন ঘটে। অতিথি পাখি দেখতে প্রতিদিন জেলার বাইরে থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করতেন। এবার পৌষের মাঝামাঝিতেও অতিথি পাখির দেখা নেই।

এলাকার যতিন চন্দ্র রায় (৬৩) বলেন, অতিরিক্ত মানুষ যাওয়া-আসার কারণে অতিথি পাখি আসছে না। সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় ও জটলা অতিথি পাখিদের ভিতু করে তুলেছে।

দিঘির পাড়ের মন্দিরের পুরোহিত অমরেশ বর্মণ জানান, দর্শনার্থীদের উত্পাত বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে দিঘির চারপাশে জটলাও। পাখিরা নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। প্রতিদিন অতিথি পাখি দেখতে প্রচুর দর্শনার্থী আসে। এসব দর্শনার্থীরা অতিথি পাখির ছবি তুলেন।

জেলা প্রশাসনের এসএ শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী দিনবন্ধু রায় জানান, এবার অতিথি পাখি কম এসেছে। সাধারণত শীত মৌসুমের শুরুতে অতিথি পাখি আসে এবং পুরো শীত মৌসুমে থাকে। এবার পাখিরা অনেক আগেই চলে গেছে।