দিনাজপুরে সদর উপজেলার একটি কবরস্থান থেকে গত এক মাসে ২২টি কঙ্কাল চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার মৃত সোহরাব আলীর কঙ্কাল চুরি হওয়ার পর ঘটনাটি সবার সামনে আসে। সোহরাবকে গত ছয় মাস আগে ঐ কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানিয়েছে, কঙ্কাল চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে ধরতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সোহরাবের ছেলে ফেরাজ আলী জানান, দিনাজপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের উত্তর শিবপুর গ্রামে অবস্থিত কবরস্থানের আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মরদেহ দাফন করা হয়। গত মঙ্গলবার কবরস্থানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাবার কবরের দিকে তাকিয়ে দেখি কবর খোঁড়া। সেখানে কোনো কঙ্কাল নেই।
শুধু সোহরাব আলীর কবরের এই অবস্থা নয়, একই গ্রামের মৃত নাজমুলসহ গত এক মাসে এই কবরস্থান থেকে মোট ২২টি কবরের কঙ্কাল উধাও হয়ে গেছে। এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, কবর থেকে ২২টি কঙ্কাল চুরির সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে কঙ্কাল চুরির চক্রকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং স্থানীয়ভাবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ শাহ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, মানবদেহের কঙ্কাল সাধারণত মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কাজে ব্যবহূত হয়ে থাকে। চোরেরা সাধারণত কঙ্কাল চুরি করে সাইন্টিফিক দোকানে বিক্রি করে। তরে দিনাজপুরে এমন সাইন্টিফিক কোনো দোকান নেই। তাই চুরিকৃত এসব কঙ্কাল জেলার অন্যান্য স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা হতে পারে।