আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী (৪৯) আর নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শ্বাসকষ্টের জন্য তাকে ভেন্টিলেশনও দেয়া হয়। তবে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
তার মৃত্যুতেহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও। শোকবার্তায় স্পিকার ফজিলানুন্নেসা বাপ্পীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এছাড়া, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এবং চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীও শোক প্রকাশ করেছেন। শোক জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও। শোক বার্তায় ব্যক্তিগতভাবে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে মরহুমার পরিবার-পরিজন, সন্তানসহ সকলের জন্য গভীর সমবেদনা জানান তিনি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীও পৃথক বার্তায় শোক প্রকাশ করেন।
চিরনিদ্রায় শায়িত: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে তাকে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ বিরাজ করছে। বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাপ্পীর কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার কফিনের পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রী এরপর মরহুমার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন ও তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী ১৯৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর নড়াইলে জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় আইনজীবী ফজিলাতুন্নেছা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি যুব মহিলা লীগের নেত্রী ছিলেন। ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর দ্বিতীয়বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বেও ছিলেন।