মোবাইল ফোনের সেবার মান এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে। সামনের দিনে এটা আরো খারাপ হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি থেকেই এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক (কারিগরি ও কার্যক্রম) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহফুজুল করিম মজুমদার বলেন, গত জুলাই থেকে মোবাইল ফোনে কল ড্রপ বেড়ে গেছে। ইন্টারনেটের স্পিডও কমে গেছে। এখন গ্রামীণফোন যদি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী টাকা না দেয় তাহলে তাদের ওপর আরো কিছু বিধিনিষেধ আসতে পারে। ফলে সেবার মান আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, অডিট আপত্তিতে পাওনা টাকা তিন মাসের মধ্যে গ্রামীণফোন না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের যে আদেশ হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেই আদেশ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী এ টাকা না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা মামলা করিনি, মামলা করেছে গ্রামীণফোন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ২৪ নভেম্বর থেকে গণনা শুরু হয়েছে। টাকা না দিলে এনওসি এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। প্রশাসক বসানো হবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনে যা আছে, তা প্রয়োগ করব।
গ্রামীণফোনের পক্ষে টেলিনরের রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, তারা টেলিনরের সঙ্গে একটা চুক্তির কথা বলে। সেটি যদি সরকার টু সরকার হয়, তাহলে আমরা মানব। তারা একটা আরবিট্রেশন চেয়েছিল, কিন্তু ফেল করেছে। প্রত্যেক ক্ষেত্রে তারাই আদালতে যাচ্ছে, আমরা যাচ্ছি না। নোটিশে বিটিআরসিকে বিবাদী পক্ষ না করায় এ বিষয়ে বিস্তারিত সংস্থাটি জানে না দাবি করে চেয়ারম্যান বলেন, তারা বলছে, এটি উকিল নোটিশ না, একটা অনুরোধ বা চিঠি ইত্যাদি বলছে। অ্যাটর্নি জেনারেল জবাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসি ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনা দাবি করছে। আর দ্বিতীয় বড়ো অপারেটর রবি আজিয়াটার কাছে দাবি করা হচ্ছে ৮৬৭ কোটি টাকা। এ পাওনার উত্স প্রতিষ্ঠান দুটিতে বিটিআরসির চালানো নিরীক্ষা থেকে। গ্রামীণফোনের ওপর নিরীক্ষা করা হয় ১৯৯৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত। আর রবির ওপর নিরীক্ষা করা হয় ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত। বিটিআরসি বলছে, এ টাকা তাদের দিতেই হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিটিআরসির কমিশনার (তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা) আমিনুল হাসান, মহাপরিচালক (তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।