পটকা-আতশবাজি ফোটানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীতে যেন আতশবাজির মহোত্সব হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ঢাকার অনেক বাসাবাড়ির ছাদে আতশবাজি, রং-বেরঙের ফানুস উড়িয়ে বর্ষবরণ করতে দেখা যায়। আতশবাজি আর ফানুসের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে আকাশ। আতশবাজি-পটকার আওয়াজে অনেকে আতঙ্ক ও অস্বস্তি বোধ করলেও কিছু করার ছিল না। ফেসবুকে অনেকে এ নিয়ে কড়া সমালোচনাও করেছেন। যেমন—বিবিসির বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হোসেন লিখেছেন :‘থার্টি ফার্স্ট নাইটে শুধু কড়াকড়ির ঘোষণা দিলেই হবে না, এটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করাও উচিত। গতরাতে আতশবাজি আর পটকা ফোটানোর নামে যে জংলি মনোভাব দেখেছি সেটা একেবারে অগ্রহণযোগ্য। যাদের বাসায় শিশু আর অসুস্থ মানুষ আছে, তারাই শুধু বিষয়টা বুঝবে। অন্যরা এই তথাকথিত আনন্দের পক্ষে সাফাই গাইবে।’ তার এই স্ট্যাটাসের নিচে পটকা-আতশবাজির বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন অনেকে। আকবর হোসেনের মতো অনেকেই এ রকম স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা ও কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও এই কর্মকাণ্ড কীভাবে হলো তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এত পটকা আতশবাজি ফানুস লোকজন পেল কোথায়? খোঁজ নিয়ে জানা যায় , গত বছর অবধি বিধিনিষেধের কারণে পটকা-আতশবাজি ফানুস-এগুলো সহজলভ্য ছিল না। অনেকে পুরান ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দোকান থেকে গোপনে সংগ্রহ করত এগুলো। কিন্তু এবার আতশবাজি ছিল সহজলভ্য। ঘরে বসেই পাওয়া গেছে। অনলাইনে ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়েছে আতশবাজি। কয়েকটি অনলাইন শপ রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে পটকা-আতশবাজি বিক্রি করেছে। ফলে থার্টি ফার্স্ট নাইটের আগেই তরুণরা মজুত করে রাখতে পেরেছে। যা ফুটিয়েছে মঙ্গলবার রাতে।