কমলগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের চরম
দুর্ভোগ, বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
শীতের ভর মৌসুমে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কাদা জমে রাস্তাঘাট বেহাল। টানা বৃষ্টিতে শীতের তীব্রতাও বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর হালকা রোদের আলো দেখা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফলে নিম্ন আয়ের লোকদের চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। তাছাড়া ঠান্ডায় শিশুদের নানা রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।
চা-বাগান ও বনাঞ্চল অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলা। আকষ্মিক বৃষ্টিপাত দেখা দেওয়ায় দিনমজুর ও বাসাবাড়ি থেকে লোকজন বের হতে পারেনি। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। দিনমজুর দেওরাজ রবিদাস, অনুরোধ রবিদাস ও মানিক মিয়া বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে দৈনিক ভিত্তিতে রোজগার করলেও শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত থাকায় কোথাও বের হওয়া সম্ভব হয়নি। একদিন রোজগার না করলে খাবার-দাবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। সিএনজি-অটোরিকশা চালক মশাহিদ মিয়া, রতন পাল বলেন, শুক্রবার গাড়ি নিয়ে বের হলেও বৃষ্টিপাতের কারণে মানুষের কোনো উপস্থিতি খুবই কম ছিল। রাস্তাঘাট ও হাটবাজারসমূহ ফাঁকা দেখা যায়।
শমশেরনগরের কৃষক ইউনুস মিয়া, আলমীর হোসেন বলেন, শীতের সময়ে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে মৌসুমি শাকসবজি চাষিদের কিছুটা উপকার হবে। তবে আরো কিছু বৃষ্টিপাত হলে টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ নানা ধরনের শাকসবজি বিনষ্টের আশঙ্কা রয়েছে।
শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক ফুলমতি, লছমি, আলীনগরের হরিনারায়ণসহ চা-শ্রমিকরা বলেন, হাজিরা ঠিক রাখতে বৃষ্টির মধ্যে ভিজেও কাজ করতে হয়েছে। কাজ না করলে হাজিরা উঠবে না আর তাতে সপ্তাহে মজুরির টাকা কমে যাবে। এদিকে ঠান্ডায় শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পিন্টু দেবনাথ, নূরুল ইসলামসহ কয়েকজন চিকিত্সক জানান, শীতে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস এসব রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। তাছাড়া বৃষ্টিপাতের ফলে ঠান্ডার পরিমাণ যদি বেড়ে যায় তাহলে শিশুদের মধ্যে আরো বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ছিল এক মিলিমিটার। তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চন্দনাইশে দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, গতকাল শুক্রবার সারা দিন হিমেল হাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল থেকেই দেখা মিলেনি সূর্সের। শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। এতে বিশেষ করে শিশু, বয়োবৃদ্ধসহ খেটে খাওয়া মানুষ পড়ে বিপাকে। শীতের প্রভাবে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিল স্থবিরতা। শীতের কারণে ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।