কাজিপুরের কম্বল যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে গার্মেন্টসের ঝুট কাপড় দিয়ে তৈরি করা পোশাক ও কম্বল এখন এলাকার বাজার দখলের পর যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কাজিপুরের শিমুলদাইড়, সাতকয়া, শ্যামপুর, ছালাভরা, কুনকুনিয়া, পাইকরতলী, ঢেকুরিয়া, বিলচতল, বেলতৈল, চকপাড়া, চালিতাডাঙ্গা, বড়শীভাঙ্গা, রৌহাবাড়ী, গাড়াবেড়, মাইজবাড়ী, হরিনাথপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা।

জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে প্রথম ঐ অঞ্চলে ঝুট কম্বল শিল্পের সূচনা হয়। ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টে চাকরি করা এসব অঞ্চলের বেশ কয়েক জন  শ্রমিক ছুটিতে বাড়ি আসার সময় হাতে করে কিছু পরিত্যক্ত ঝুট কাপড় নিয়ে এসে তাদের পরিবারের নারীদের হাতে তুলে দেন। নারীরা ছোটো ছোটো টুকরো করে সেগুলোকে সেলাই মেশিনের সাহায্যে জোড়া দিয়ে কম্বল আকৃতি তৈরি করে নিজেদের বাড়িতেই প্রথম ব্যবহার শুরু করেন। এগুলো বেশ গরম হওয়ায় ধীরে ধীরে এ শিল্পের প্রসার ঘটে। পরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে এটি বাণিজ্যিক রূপ পায়।

ঝুট কম্বল শিল্পের সঙ্গে জড়িত সোহেল রানা বলেন, আমরা ঝুট কাপড়কে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ডিজাইনে পোশাক তৈরি করে সস্তা দামে বিক্রি করে থাকি। 

কারখানা মালিক সূত্রে জানা গেছে, এই সব কারখানায় পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি ফলে এলাকার বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে ।

ঝুট কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, অল্পদিনেই ঝুট কম্বলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক চাহিদাও সৃষ্টি হয়েছে।

চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মুকুল বলেন, এ সমস্ত পোশাক কারখানা কাজিপুরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সরকার যদি এদের নির্দিষ্ট একটি বড়ো জায়গা স্থায়ী বরাদ্দ দিয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন তাহলে অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশেরও উন্নয়ন হবে। এটি হলে ব্যবসায়ীরা সরাসরি কারখানায় এসে পোশাকের অর্ডার দিতে পারবেন।

শিমুলদাইড় বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ জানান, তারা ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক কারখানা থেকে ঝুট কাপড় সংগ্রহ করে কম্বল, ব্লেজার,  ট্রাউজার, প্যান্ট ইত্যাদি তৈরি করছেন।