স্পোর্টস রিপোর্টার
ভারত সফরের টি-২০ দলে ছিলেন না। জাতীয় ক্রিকেট লিগেও (এনসিএল) বড়ো রানের দেখা পাননি। পড়তি ফর্ম নিয়েই বঙ্গবন্ধু বিপিএল শুরু করেছিলেন সাব্বির রহমান। টুর্নামেন্টে ৯ ম্যাচ খেললেও বাজে ফর্মের বলয় থেকে বের হতে পারেননি তিনি। ব্যাট হাতে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে হতাশ করেছেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। নির্বাচকরাও তাই সাব্বিরকে নিয়ে হতাশ।
চলমান বিপিএলে অচেনা সাব্বিরকেই দেখছে গোটা দেশ। ব্যাটিংয়ে নেই আগের মতো আগ্রাসন। আত্মবিশ্বাস তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। দলের চাহিদা, উইকেটে গিয়ে পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারছে না তার ব্যাট। অথচ দ্রুত গতিতে রান তোলা, মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত তিনি। চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-২০ বিশ্বকাপকে টার্গেট করে তরুণ ক্রিকেটাররা যেখানে ব্যাটে-বলে নিজেদের প্রমাণে ব্যস্ত, সেখানে সাব্বির যেন পথ হারিয়ে দিকভ্রান্ত!
বিপিএলের আগের আসরগুলোতেও নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার নিষ্প্রভ, বিবর্ণ তার ব্যাট। সাব্বিরের ব্যাটের বিনোদন ভুলতে বসেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। তার ফর্মহীনতা অবশ্য অনেকের মনে প্রশ্নের উদ্রেকও করে, কি হয়েছে সাব্বিরের?
কুমিল্লার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে ব্যাটিং করছেন তিনি। টপঅর্ডার, মিডল অর্ডারে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাকে। কিন্তু আস্থার প্রতিদান দিতে পারছেন না। ব্যাটিং অর্ডার বদলালেও সাব্বিরকে একাদশ থেকে বাদ দেয়নি কুমিল্লা। ক্রমাগত সুযোগ নষ্ট করছেন ২৮ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান। কুমিল্লার হয়ে ৯ ম্যাচ খেলে ১৪২ রান করেছেন তিনি। এই রান করতে খেলেছেন সর্বমোট ১৪২ বল। ব্যাটিং গড় মাত্র ১৫.৭৭, স্ট্রাইক রেট ১০০.০০। ছন্দ হারান সাব্বির এই টুর্নামেন্টে মাত্র ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা মারতে পেরেছেন। সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেছিলেন গত ১৮ ডিসেম্বর রংপুরের বিপক্ষে।
বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সাব্বিরের ইনিংসগুলো ছিল এমন; ১৯, ৪, ৪৯, ৫, ০, ৫, ২৫, ১৮, ১৭। তার শ্রীহীন ব্যাটিংয়ে বিরক্ত নির্বাচকরাও। খোদ কুমিল্লা দলেই টেকনিক্যাল উপদেষ্টা হিসেবে আছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। খুব কাছ থেকেই দেখছেন এই তরুণের ব্যাটিং। গতকাল সাব্বিরের রানখরা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘ব্যাটিং দেখে তো মনে হচ্ছে না ও (সাব্বির) জাতীয় দলের হয়ে খেলছে।’
টি-২০ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে সাব্বিরের। তবে প্রধান নির্বাচকের কথায় স্পষ্ট, আপাতত বিশ্বকাপ বা পাকিস্তান সফরের (যদি বাংলাদেশ দল সফরে যায়) দলের বিবেচনায় ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের অবস্থান নেই। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘এভাবে খেললে টিকে থাকা কঠিন। ওকে আগে তো রান করতে হবে। বলার মতো কোনো পারফরম্যান্স তো নেই।’ গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের বিরুদ্ধে সুপার ওভারে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে গতকাল ঢাকায় ফিরেছে কুমিল্লা দল।
কুমিল্লার হয়ে জ্বলে উঠার মঞ্চ পেয়েছিলেন সাব্বির। কিন্তু ইনিংস বড়ো করতে ব্যর্থ হন তিনি। প্রথম ম্যাচে ১৭ বলে তিন চারে ১৯ রান করেছিলেন। রংপুরের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে ৪৯ রান করতে খেলেছেন ৪০ বল।
পরের তিন ম্যাচে দুঅঙ্কের ঘরই পার হতে পারেননি। পরের তিন ম্যাচেও দলের জয়ের নায়ক হতে পারতেন। মিরপুরে রাজশাহীর বিরুদ্ধে ২৩ বলে ২৫ রান করেন সাব্বির। ঐ ম্যাচে সৌম্য একাই টেনেছিলেন কুমিল্লাকে। সৌম্যর সঙ্গে জুটি গড়লেও পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেনি তার ব্যাটিং। চট্টগ্রামের বিপক্ষে ১৫ বলে ১৮ রান করে ফিরে যান। সিলেটে সর্বশেষ ম্যাচে ২৫ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হয়েছেন তিনি।
টি-২০ তে একটি সেঞ্চুরি, ১৪টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক সাব্বির যেন চলতি আসরে ২২ গজে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন।