চার দিনের টেস্ট
স্পোর্টস রিপোর্টার
টেস্ট ক্রিকেটে ‘পঞ্চম দিনের চ্যালেঞ্জ’ বলে আলাদা একটা ব্যাপার আছে। পঞ্চম দিনের পিচ হঠাত্ করে হয়ে ওঠে মাইন ফিল্ড; এখানে সামান্য রান পার করতে হিমশিম খেতে হয়। পঞ্চম দিনে খেলোয়াড়দের শরীর ভেঙে আসে। এই যে পঞ্চম দিনের চ্যালেঞ্জ, এটা ক্রিকেট থেকে হারিয়ে যেতে পারে। আইসিসি চিন্তা করছে, টেস্ট ক্রিকেটকে স্থায়ীভাবে চার দিনে নামিয়ে আনা হবে।
সময় ও সূচি বাঁচানোর জন্য চার দিনের টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে আইসিসি। আর এই নতুন উদ্যোগের খবরে দুনিয়া জুড়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে জোর গলায় কথা বলছেন। বেশীর ভাগ বর্তমান ক্রিকেটারই বলছেন, এটা টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষতি করবে। তবে পক্ষেও আছেন কেউ কেউ।
অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার নাথান লায়ন বলছিলেন, পঞ্চম দিনটা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য খুব জরুরি, ‘আপনি দুনিয়া জুড়ে বড়ো বড়ো ম্যাচগুলোর দিকে দেখুন। আমি নিজে এমন অনেক সেরা ম্যাচ খেলেছি, যেগুলো শেষ হয়েছে পঞ্চম দিনে এসে। এই দিনটা নাটকীয়তায় ভরা থাকে।’
লায়ন মনে করেন টেস্ট ক্রিকেট যে কঠিন একটা ব্যাপার, সেটার আসল পরীক্ষা এই পঞ্চম দিনেই হয়, ‘এটা বিশাল একটা চ্যালেঞ্জ। আপনি নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে এই দিনটায় পার করে যেতে চাইবেন। এটা পার্কে হেঁটে বেড়ানোর মতো ব্যাপার নয়। পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ, কন্ডিশন পক্ষে না থাকলে কঠিন একটা ব্যাপার। সেটাকেই ধরে রাখা উচিত।’
লায়নের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন তারই দলের সাবেক কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রা। তিনি বলেছেন, টেস্টকে পাঁচ দিনের চেয়ে কমিয়ে আনার আইডিয়া তিনি ‘ঘৃণা’ করেন, ‘আমার কাছে পাঁচ দিনটা বিশেষ কিছু। আমি এর চেয়ে টেস্টকে ছোটো করার চিন্তাকে ঘৃণা করি। গোলাপি টেস্ট বা দিবারাত্রির টেস্ট দর্শক টানার এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভালো উপায়। কিন্তু খেলাটার দিন কমানোর এই যে পরিবর্তনের কথা, আমি এটার বিপক্ষে।’
অবশ্য ইংল্যান্ডের বর্তমান ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সমর্থন পাচ্ছে আইসিসি। দলটির সেরা খেলোয়াড় জো রুট বলছিলেন, তিনি এই ধারণার পক্ষে। তিনি বলছিলেন, এতে মাঠে দর্শক বাড়বে, ‘যেসব আয়োজকরা মাঠে দর্শক পেতে সংগ্রাম করছেন, তাদের দিক থেকে এটা বেশ মজার একটা ব্যাপার হতে পারে।’
ইংল্যান্ডেরই জস বাটলার বলছিলেন। টেস্ট সর্বোচ্চ ব্যাপার। কিন্তু এটাতে পরিবর্তনের দরকার হলে করতে হবে, ‘টেস্ট ক্রিকেট সর্বোচ্চ ব্যাপার। কিন্তু আমাদের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমার মনে হয়, টেস্ট ক্রিকেটকে চার দিনে নিয়ে আসলে সেটা টেস্টকে সংরক্ষণ করবে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’