এক বছর অপ্রতিরোধ্য লিভারপুল

 স্পোর্টস রিপোর্টার

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের সর্বশেষ হারটি এসেছিল ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। গেল বছরের শুরুতে হারটিই গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জিততে দেয়নি কোচ য়ুর্গেন ক্লপের দলকে। তার পর থেকেই প্রিমিয়ার লিগে অপ্রতিরোধ্য অল রেডরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারিয়ে অপরাজেয় যাত্রার এক বছর পূর্ণ করল দলটি।

অ্যানফিল্ডে বছরের শুরুর ম্যাচে এগিয়ে যেতে সদ্য বিশ্বকাপ জেতা দলটি নিল মোটে চার মিনিট। রক্ষণের ভুলে প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেন মোহামেদ সালাহ। এরপর ৬৪ মিনিটে সালাহর ব্যর্থ প্রয়াসের পর সাদিও মানে দ্বিতীয় চেষ্টায় লক্ষ্যভেদ করলে জয় নিশ্চিত হয় অল রেডদের।

এর ফলে লিভারপুল বছরের শুরুটা জয় দিয়ে তো করেছেই, আরেকটু লম্বা করেছে নিজেদের অপরাজেয় যাত্রাটাকেও। শেষ এক বছরে অপ্রতিরোধ্য লিভারপুল ৩৭ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৩২ ম্যাচে, করেছে ৮৭ গোল। দলের এমন নৈপুণ্যে ক্লপ স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত, ‘আমি সত্যিই খুশি এবং ছেলেরা যেভাবে পারফরম করেছে তাতে গর্বিত।’

এমন পারফরম্যান্সকে মোটেও হেলাফেলা করে দেখছেন না জার্মান কোচ। তিনি বলেন, ‘এমন অর্জনকে হালকা করে দেখা মোটেও উচিত হবে না আমাদের। দল যা করেছে সেটাকে আমি নিজে একে এক সেকেন্ডের জন্যেও হেলাফেলা করে দেখি না।’

এমন অর্জনের পরেও লিভারপুলকে ইতিহাস গড়তে হলে বহুদূরের পথই পাড়ি দিতে হবে। ম্যাচ হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে অপ্রতিরোধ্য থাকার রেকর্ডটা আর্সেনালের। ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে ৪৯ ম্যাচ অপরাজিত ছিল আর্সেন ওয়েঙ্গারের ‘অদম্য’ আর্সেনাল। আর ইউরোপীয় ফুটবলে রেকর্ডের গণ্ডিটা আরো বড়ো। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ৫৮ ম্যাচ অপরাজেয় ছিল কোচ আরিগো সাচ্চির এসি মিলান। দিন হিসেবেও ইংল্যান্ড আর ইউরোপে রেকর্ডদুটো আর্সেনাল আর মিলানেরই। ৫৩৯ দিন অপরাজিত ছিল আর্সেনাল। আর মিলানের রেকর্ডটা ৬৭২ দিনের।

গেল মৌসুমে দুর্দান্ত খেলেও এক পয়েন্টে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল ক্লপের শিষ্যদের। এক বছর অপরাজিত থাকার পরেও তাই ভাবনাটা থেকেই যায়। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে সিরিআয় পুরো মৌসুম অপরাজিত থেকেও শিরোপা জিততে পারেনি পেরুগিয়া। এর পরের মৌসুমে লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের ভাগ্যেও জুটেছিল এমন বঞ্চনাই।

সে ‘কীর্তি’ নিশ্চিতভাবেই ছুঁতে চাইবেন না ক্লপ, চাইবেন অদম্য আর্সেনাল হতেই। জার্মান এই কোচ তাই জানালেন আরো উন্নতি করতে দলকে, ‘আমরা জানি যে আমাদের আরো উন্নতি করার জায়গা আছে।’

এক বছর অপরাজিত থাকায় ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে রব ওঠাটা স্বাভাবিক। সেটা সামলানোকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ক্লপ। ক্লাবের ওয়েবসাইটকে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের যা করতে হবে তা হলো—শিরোনাম হওয়ার ব্যাপারটা সামলাতে হবে। একে কম গুরুত্ব দিলে হবে না কেননা একে অন্য দলগুলোর জন্যে হুমকি হিসেবে দেখছি না আমরা। আমাদের নিজেদের ব্যাপারেই ভাবতে হবে। আরো ভালো খেলার সামর্থ্য আমাদের আছে এবং আমাদের সেটাই করতে হবে। কিন্তু আমি কিছু ব্যাপার দেখেছি যা আগের ম্যাচ থেকেও ভালো খেলতে সাহায্য করেছে আমাদের। যেমন- ধরুন ড্রেসিং রুমে কোনো ধরনের উত্সব দেখিনি আমি। এর দুটো কারণ হতে পারে। প্রথমটা হচ্ছে বছরের সবচেয়ে কঠিন সময়টা এখন। আরেকটা হচ্ছে—খেলোয়াড়রা নিজেদের ছাপিয়ে যেতে চায়। সত্যিই বলতে, দলের এমন আচরণ আমাকে বেশ আনন্দ দেয়।’