রাজশাহী-৫ : নির্বাচনী মাঠে সরব আওয়ামী লীগ, প্রার্থী জটিলতায় বিএনপি

ভোটের প্রচারণা আর মাত্র এক সপ্তাহ। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ডা. মনসুর রহমানের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রতিকুল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নৌকার লিফলেট নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। 

জানা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতো বিএনপি। কিন্তু  দলীয় কোন্দল ও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আইনি জটিলতায় শেষ সময়ে ভোটের মাঠে নিষ্ক্রিয় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। প্রার্থিতা নিয়ে বিভক্তি থাকায় ভোটের প্রচারণা ফেলে ধানের শীষ পেতে দুই বিএনপি নেতা বর্তমানে উচ্চ আদালতে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। ফলে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নীরব দর্শকের মতো সময় পার করছেন। তবে পিছিয়ে নেই ছোট দলের প্রার্থীরা। নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় জেনেও ভোটের মাঠে প্রচারণায় ব্যস্ত তারা। 

এ আসনে নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল, হাতপাখা ও গোলাপ ফুলের প্রার্থী থাকলেও নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ভোটারদের অভিমত।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত ডা. মনসুর রহমান। তিনি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রচারণার দিক থেকেও অন্যান্য প্রার্থীদের থেকে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছেন। দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় যোগদান থেকে শুরু করে নির্বাচনী মাঠের সর্বত্র তার অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

ডা. মনসুর রহমান বলেন, আমি সারা জীবন মানুষের সেবা করে এসেছি। সেবাই আমার কর্ম, সেবাই আমার ধর্ম। চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন মানুষের সেবা করেছি। তাই সেবার পরিধিটা বাড়াতে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে করুণা করে যে সুযোগ দিয়েছেন নির্বাচিত হলে আমি এর যথাযোগ্য মর্যাদা রক্ষা করবো ইনশাআল্লাহ। নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে বিএনপির এ আসনে ভোটের প্রচারণায় নেই বললেই চলে। প্রার্থিতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভক্তি থাকায় দলের দুই প্রার্থী শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। বৃহস্পতিবার প্রাপ্ত খবরে উচ্চ আদালত ঋণ খেলাপের দায়ে বিএনপির প্রার্থী নাদিম মোস্তফার প্রার্থিতা বাতিল করেছে বলে জানা গেছে।  

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে বিএনপি চারজনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। যাচাই বাছাইয়ে মূল প্রার্থী নাদিম মোস্তফাসহ দুইজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। আপিল শুনানি শেষের একদিন আগেই দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল। তিনি চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি গত ৯ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমাও দেন। কিন্তু আপিল শুনানির শেষ দিন নাদিম মোস্তফার প্রার্থিতা বৈধ হলে বিএনপি চূড়ান্ত মনোনয়ন পরিবর্তন করে নাদিম মোস্তফাকে চিঠি দেয়। ১০ ডিসেম্বর দলীয় প্রতীক নিয়ে নাদিম মোস্তফা প্রচারণাও শুরু করেন। 

আরো পড়ুন: হনুমান মুসলমান ছিলেন, বিজেপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্য

এদিকে নাদিম মোস্তফার গণসংযোগের শুরুতেই এ আসনে দীর্ঘদিন কোণঠাসা হয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়। কিন্তু গত ১২ ডিসেম্বর অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলের এক রিট মামলায় শুনানিতে গত ১৮ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতে অধ্যাপক নজরুল ইসলামের পক্ষে রায় দেন। তাকে (নজরুল মণ্ডল) দলীয় প্রতীক দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন এবং নাদিম মোস্তফার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। 

এ খবর নির্বাচনী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভোটের মাঠে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার উক্ত রিটের পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে উচ্চ আদালত ঋণ খেলাপের দায়ে নাদিম মোস্তফার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছেন বলে জানা যায়। 

এদিকে উচ্চ আদালতের রায়ের কপি এখনও হাতে পাননি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল। ফলে তিনিও দলীয় প্রতীক পাননি। 

এ ব্যাপারে নাদিম মোস্তফা বলেন, শিগগিরই আপিল করবো। আপিলে রায়টি স্থগিত হলে তিনিই প্রার্থী থাকবেন।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, আমি এখনও রায়ের কপি হাতে পাইনি। রায়ের কপি পেলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করবো এবং দলীয় প্রতীক পাবো।

ইত্তেফাক/জেডএইচ