আলোকপাত

খ্রিষ্টাব্দ তথা ইংরেজি নববর্ষ

মো. আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব

এটা শাশ্বত সত্য যে, নতুনকে সবাই আলিঙ্গন করে এবং কাছে টেনে নেয়। কারণ এর বৈচিত্র্যময়তায় মানুষকে বিভিন্নভাবে আনন্দ দিয়ে থাকে। এ বিশ্বে একই জিনিস চিরস্থায়ী নয়। এক সময়ে তা পুরাতন হয়ে বিদায় নেয়। আবার নতুনের আমেজে সেই জায়গা আরেকটি দখল করে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে কালের পরিক্রমায় সময়ও (Period) নতুন হিসেবে মানুষের মননশীলতায় অনন্য সুন্দর হিল্লোল বয়ে নিয়ে আসে। এখানে নব-সময় বলতে বিভিন্ন সালের প্রথম দিন হিসেবে নববর্ষকে বুঝানো হচ্ছে। কিন্তু এ সময়কে ঘিরে সৌর (Solar) এবং চান্দ্র (Lunar) ভিত্তিক সাল বিভিন্ন জাতি অনুসরণ করে থাকে, যেমন-বঙ্গাব্দ, হিজরি, খ্রিষ্টাব্দ ইত্যাদি। বর্তমানে এ বিশ্বে যত প্রচলিত সাল আছে, তার মধ্যে ইংরেজি সাল এ পৃথিবীর ২০৭টি দেশে যতখানি রেখাপাত করে থাকে, অন্যগুলো ততটা নয়। ইংরেজি নববর্ষের এ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার পেছনে হয়তো উপনিবেশবাদ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ ইংরেজি ক্যালেন্ডার বছর (জানুয়ারি টু ডিসেম্বর) প্রবর্তিত হয়েছে যিশুখ্রিষ্টের (হজরত ঈসা আ.) জন্মকে ঘিরে। যতদূর জানা যায়, এ খ্রিষ্ট বছরের গণনা শুরু হয়, তাঁর জন্মের ৫২৫ বছর পর। এক্ষেত্রে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার ও পোপ অষ্টম গ্রেগরিসহ অনেকের অবদান প্রণিধানযোগ্য। অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে বর্তমানে এ ইংরেজি বছরে পর্যবসিত হয়েছে। মূলত ইংরেজি বারো মাসের নাম পৌরাণিক রোম ও গ্রীসের ভিন্ন ভিন্ন দেব-দেবীর নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা হয়েছে। সাধারণত যিশুখ্রিষ্টের জন্ম থেকে তত্পর সময়কে AD (Anno Domini) এবং জন্মের আগে BC (Before Christ) বলে অভিহিত করা হয়। এক্ষেত্রে শূন্য (০) থেকে আরম্ভ করা হয়নি।  তাই AD ও BC ১(এক) পর ১ (এক) ধরা হয়েছে। যদিও এ বিষয়টি সমালোচিত। যাহোক, বর্তমান যে ইংরেজি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি, আসলে এটি সৌর বছর ভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এতে অধিবর্ষের ক্ষেত্রে ৪০০ দ্বারা বিভাজ্যর নিয়ম চালু করা হয়েছে।

এই ইংরেজি নববর্ষের সময় গণনা সবারই ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে আছে। এটা সর্বজনবিদিত যে ইংরেজি সালের প্রথম মাস জানুয়ারি। আর এর প্রথম দিন ১ জানুয়ারি অর্থাত্ ইংরেজি নববর্ষ। এদিকে জানুয়ারি সম্পর্কে রোমানদের উপাখ্যানে একটি সুন্দর কাহিনি প্রচলিত আছে। উল্লেখ্য যে, দুমুখ সম্বলিত রোমান দেবতা জানুসের (Janus) নাম অনুসারে জানুয়ারি মাসের নামকরণ করা হয়েছে। এই দেবতা ছিলেন স্বর্গের পাহারাদার। তার একটি মুখ ছিল জরাজীর্ণ-পুরাতন এবং অপরটি ছিল নব সুন্দর ও লাবণ্যময়। সেই হিসেবে পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরণ হিসেবে বিবেচিত। এই জানুয়ারি মাস তথা ১ জানুয়ারি বা ইংরেজি নববর্ষের সূত্র ধরে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বিভিন্ন আঙ্গিকে আর্কষণমূলক নতুন বছরের ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে সম্যক ধারণার জন্য সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, ইংরেজি অধিকাংশ শব্দ এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে। সেই আবর্তে ল্যাটিন Calendarium শব্দের অপভ্রংশ হয়ে উদ্ভব হয়েছে Calendar নামক বহুল জনপ্রিয় ও ব্যবহূত শব্দটি, যার আদি অর্থ হলো Account-Book। যাহোক, আসুন আমরা পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছর অর্থাত্ ২০২০ ইংরেজি বছর কোলে তুলে নেই, যাতে থাকবে না অসুন্দর, হিংসা-বিদ্বেষ।

n লেখক :গবেষক