ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড-২১
নিলয় মামুন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ২১ নম্বর ওয়ার্ড। যেখানে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠান। এছাড়া রয়েছে বাংলামোটর ও শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নাগরিক সেবা যিনি নিশ্চিত করবেন তাকেই ভোট দিবেন বলে জানান এলাকাবাসী। পুরো এলাকায় রয়েছে ব্যাপক নাগরিক সেবার ঘাটতি। এত বড়ো এলাকায় নেই কোনো খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার। নেই পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেই কোনো উদ্যোগ। বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলসহ হাতিরপুল ও হাবিবুল্লাহ রোডে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডজুড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত রয়েছে হাতিরপুল কাঁচাবাজার। মশা নিয়ন্ত্রণে নেই কার্যকরী পদক্ষেপ। স্যুয়ারেজের অব্যবস্থাপনায় মাঝে মধ্যে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বাংলামোটর জহুরা মার্কেট গলি রাস্তাসহ বিভিন্ন সড়ক ভাঙাচোরা। ফুলাররোডে ছিনতাইসহ রয়েছে নিরাপত্তার অভাব। এদিকে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে উঠেছে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদকে।
তিনি বলেন, আমি গতবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু দল থেকে এবার মনোনয়ন পেয়েছি। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আমার এলাকা নিয়ে কাজ করার বহু পরিকল্পনা রয়েছে। একটি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চাই। বিশেষ করে পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করব। ছিনতাই রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিব। এছাড়া ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অ্যাপস তৈরি করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার জন্য যা যা করার দরকার তাই করব।
এদিকে এই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ হামিদ। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমি নির্বাচনের মাঠে আছি। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হয়েই জনসাধারণের জন্য কাউন্সিলর অফিস উন্মুক্ত করে দিয়েছি। যখন তখন যে কেউ আমার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাদের সমস্যা সমাধান করার সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া পান্থকুঞ্জ মাঠের কাজ চলছে, একটি পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেছি। অন্য আরেকটি টিএসসি পাশে করার জন্য ডিজাইনও প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না। কমিউনিটি সেন্টার না থাকলেও এর জন্য আবেদন করেছি। শাহবাগে একটি ফুটওভার ব্রীজ স্থাপন করেছি। হাতিরপুল কাঁচাবাজার পাকা করার ব্যবস্থাও চলছে। এই ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে শাহবাগ থানা বিএনপি নেতা খাজা হাবিব উল্লাহ হাবিবকে। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত হতে পারলে ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করবেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানির সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে জনগণের পাশে থাকবেন।