রাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ

শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রী ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্লীলতাহানির শিকার ষষ্ঠ শ্রেণির (বর্তমানে সপ্তম) এক ছাত্রী ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। মেয়ের উদ্ভূত মানসিক অবস্থায় তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রউপদেষ্টা ও রসায়নের অধ্যাপক মা এবং নিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাবাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

তবে আলোচিত এ শ্লীলতাহানির মামলার আসামি, নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. দুরুল হুদা জামিনে কারামুক্ত হয়ে স্কুলে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। এমনকি বিভিন্ন মাধ্যমে ঐ ছাত্রীর মা-বাবাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে থানায় ছাত্রীটির মা সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

জিডিতে বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক দুরুল হুদা ভাড়াটে লোকজন দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাদের হুমকি দিচ্ছেন। বিভিন্ন সময় অপরিচিত নম্বর থেকে তাদের মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হচ্ছে। পরিচয় জানতে চাইলে তারা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে লাইন কেটে দিচ্ছে। আমরা সপরিবারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি এবং মেয়েরা ক্লাসে যেতে ভয় পাচ্ছে।’

অভিযোগ উঠেছে, কোমলমতি মেয়েটির শ্লীলতাহানির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত ও নিপীড়ক শিক্ষকের পক্ষ নিয়েছে। এক্ষেত্রে স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটিকে ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর মায়ের লিখিত অভিযোগ ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে’ রেকর্ড করে আসামিকে গ্রেফতার                করা হয়। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর আসামি জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। 

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্কুলে দেখে নির্যাতিত ছাত্রী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সে এখন বাসায় কান্নাকাটিসহ অস্বাভাবিক আচরণ করছে। রাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, ঐ ছাত্রীর বাবা ইত্তেফাককে বলেন, ‘নিজের মেয়ের ওপর পরিচালিত ঘটনা এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পরিচালনা কমিটির ব্যর্থতায় পিতা ও কমিটির সচিব হিসেবে আমি অত্যন্ত মর্মাহত ও বিব্রত। আশা করব দেশের আর কোনো মেয়ে ও তার মা-বাবা যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন।’  স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল হাসান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মৌখিক নিষেধ থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। যেহেতু উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, তাই তার সিদ্ধান্ত অমান্য করা যাচ্ছে না বলেও মতামত দেন অধ্যাপক চৌধুরী। উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে মোবাইলে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।