বুড়িগঙ্গা নদীতে বাল্কহেড (ট্রলার) ডুবে চার নৌযান শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কাওটাইল গুদারাঘাট বরাবর মাঝ নদীতে ট্রলারটি ডুবে যায়। নিহতরা হলেন—ঝালকাঠির নলছিটির কান্দেপুর এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে লুত্ফর রহমান (৩৯), পিরোজপুরের কাউখালীর চাষেরকাঠি এলাকার মোস্তফা (৫৪), একই জেলার বটবাড়ির ছোট আরজি এলাকার রাশেদ হাওলাদারের ছেলে বাবু (১৮) ও বরিশালের বানারীপাড়া ইলুহার এলাকার মহিবুল্লাহ (৬০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ট্রলারচালক আমির হোসেনসহ দুই জন।
ট্রলারচালক আমির বলেন, আমাদের ট্রলারটি বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহার হয়। ভোরে ট্রলারটি পরিষ্কার করেছি। ধারণা করছি, পরিষ্কার করার সময় হয়তোবা কোনো স্থানে ছিদ্র হয়েছিল। পরিষ্কার কাজ শেষে আমরা সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ি, তখন ছিদ্রটি দিয়ে ভেতরে পানি ঢুকে ট্রলারটি ডুবে যায়। আর ঘুমিয়ে থাকার কারণেই ভেতরে আটকা পড়ে আমাদের চার শ্রমিক ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান জানান, নিহত চার জনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ কাজল মিয়ার বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ স্টাফ রিপোর্টার জানান, ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটি উদ্ধার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিক জানান, নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে উপজেলা প্রশাসন হতে নগদ ২০ হাজার করে নগদ অর্থ প্রদানসহ দুটি করে কম্বল ও খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাশগুলো বাড়িতে নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।