মহান বিজয় দিবসে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন শোভাযাত্রায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার গ্রেফতার আতঙ্ক এখনো তাড়া করে ফিরছে দলটির নেতাকর্মীদের। সেদিনের পর থেকে কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি তাদের, এমনকি বাড়িঘরেও থাকছেন না অনেকে। ফলে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে অনেকটাই ভাটা চলে এসেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে। এমনটাই মনে করছেন এখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে প্রায় এক বছর কিছুটা শান্তিতে বাড়িঘরে থাকতে পারছিলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছিল না নতুন কোনো মামলা হামলার ঘটনা। পুরোনো মামলাগুলোর হাজিরা দিয়ে আর টুকটাক কর্মসূচি পালন করে স্বাচ্ছন্দ্যেই কাটছিল তাদের দিন। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে উজ্জীবিত হয়েছিল নেতাকর্মীরা। কিছুটা স্বস্তিতে থাকা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আকস্মিক এক মামলায় আবারও ঘরছাড়া হলো। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েও পালিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। নতুন উদ্যমে শুরু করা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আচমকা থমকে গেলো এই একটি মামলার কারণে। মহান বিজয় দিবসে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কয়েকটি বিজয় শোভাযাত্রাতে পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২০০-৩০০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এ মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালসহ এখন পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ায় পুরোনো একটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক ছাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বিএনপির ১৯ নেতাকর্মীর নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ (৪৮), মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকে (৫৫) নিজবাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল থেকে আটক চার জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এরা হলেন—নুর এলাহী সোহাগ ওরফে রাকিব (৩৭), মো. স্বপন মিয়া (২০), মো. কামরুল হাসান (২৯) এবং মামুন (২০)। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি হিসেবে হোসেন কাজল নামে এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ১৯ তারিখ রাতে খানপুরের নিজবাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে এবং দুপুরে ফতুল্লা থেকে আটক করা হয় জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদারকে। গত ১ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং ২ জানুয়ারি রুহুল আমিন শিকদার নারায়ণগঞ্জের আদালত থেকে জামিন পেলেও বাকিরা এখনো রয়েছেন কারাগারে।