কাজী সুলতানুল আরেফিন
বাংলা সাহিত্যে একটা কথা প্রচলিত আছে। তা হলো উনিশে-বিশে! মানে যখন কেউ কোনো প্রতিযোগিতায় কারো পিঠাপিঠি বা কাছাকাছি অবস্থান করে, তার উদাহরণ টানতে এই কথা বলা হয়। অর্থাত্ কেউ কারো থেকে কম নয়।
নাহিদা বেগমের সাথে আমার যে খিস্তি-খেউর লেগে থাকত তাতে দুজনের কেউই হার মানতে নারাজ ছিলাম। মানে আমাদের ঝগড়া-বিবাদ ছিল উনিশে-বিশে! সারা বছর তাকে বারবার বলেছিলাম, ‘এভাবে আর কত? অন্তত একবার তো হার মানতে পারো!’
সে দাঁত কেলিয়ে বলল, ‘কী করার আছে বলো? সালটাই যে এমন!’
‘মানে?’
‘২০১৯ সালের মধ্যে উনিশ আর বিশ দুটোই আছে। তাই আমরা উনিশে-বিশে লেগে আছি। কেউ হার মানার মতো অবস্থানে নেই!’
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী
/ হামীম রায়হান
উনিশ-বিশ করতে করতে এ বছরটাও উনিশ শেষে বিশে এসে গেল। এই উনিশ-বিশ নিয়ে সেন্টু ভাইয়ের কত স্মৃতি! যেমন পরীক্ষায় তেত্রিশে পাস। আর ভাই পেলেন বত্রিশ। লেখায় উনিশ-বিশ হওয়ায় ফেল করে গেলেন।
ভাই বিশের নামতা ভালোভাবে পারলেও উনিশের নামতা পারেন না। আর সবাই খালি উনিশের নামতাই জিজ্ঞেস করে!
ভাই এক মেয়ের প্রেমে পড়লেন। গভীর রাত পর্যন্ত মনের মাধুরী মিশিয়ে সেই মাধুরীর জন্য একটা প্রেমপত্র লিখলেন। সকাল বেলা একটু উনিশ-বিশ হওয়ায় সেই পত্র সেন্টু ভাইয়ের মায়ের হাতে! এক গালিতে প্রেম শেষ।
একদিন সেই মাধুরীর সঙ্গে এক ছেলেকে দেখে ভাইয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেল! ভাই তো নিজেকে আর ধরে রাখতে না পেরে উনিশ-বিশ না ভেবে ছেলেটির সামনে দাঁড়ায়! ভাইকে দেখার সাথে সাথে মাধুরী বলে ওঠে, ‘ভাইয়া, এই সেন্টু ছেলেটিই আমাকে প্রতিদিন বিরক্ত করে!’ সেন্টু ভাইয়ের বুঝতে বাকি থাকল না, এটাই মাধুরীর মার্শাল আর্ট জানা ভাইটি! কোনোভাবে সেখান থেকে হাত-পা অক্ষত রেখে পালিয়ে এলেন!
একবার ভাইদের পুকুরপাড়ের গাছে মৌমাছিরা একটা বড়ো বাসা বাঁধল। ভাই আগুন জ্বালিয়ে সেই বাসা থেকে মধু সংগ্রহে যান। মৌয়ালরা যেমন করে। হঠাত্ আগুন লাগাতে একটু উনিশ-বিশ হওয়ায় মৌমাছিরা ভাইকে আক্রমণ করে! ভাই প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিলেন। কিছু মৌমাছি তো পানিতেও কামড়াতে থাকে!
একবার হাইস্কুুলে যে এক ঘটনা ঘটেছিল! স্কুলে নতুন মেম এলেন। সেন্টু ভাই সেই মেমকে না চিনে উনিশ-বিশের ভুলে ডেকে ফেলেন ‘আপু’! সেই মেম ছিলেন বদমেজাজি। প্রথম দিনই ক্লাসে এসে সেন্টু ভাইয়ের পিঠে জানান দিলেন, ‘নো আপু, ওনলি মেম!’
উনিশের শুরুতে সেন্টু ভাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এ বছর অবশ্যই ফরজ কাজটি সারবেন কিন্তু হলো না। উনিশ-বিশের জন্যই আর বিয়েটা হলো না। বিশ সাল ঢুকছে, উনিশ-বিশ না ভেবে এবার দেখা যাক বিয়েটা হয় কি না! আমরাও অনেকদিন বিয়ে খাই না। উনিশের খরা দেখা যাক বিশে কাটে কি না!
পটিয়া, চট্টগ্রাম