ক্রিকেটপাগল বউ

 মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা আশা

 

ক্রিকেট!

হ্যাঁ! আমি হলাম একজন মস্ত বড়ো ক্রিকেটপ্রেমিক। ক্রিকেটের প্রতি প্রেমটা আমার ছোটবেলা থেকেই। সারাক্ষণ ক্রিকেট খেলা দেখা আর ব্যাট-বল নিয়ে পড়ে থাকাটাই ছিল আমার প্রধান কাজ। বাড়ি থেকে এর জন্য কতবার যে কত ঝাড়ি খেতে হয়েছে তার হিসাব নেই। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা। পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ আমাদের টাইগাররা। বুঝতেই পারছেন কী অবস্থা। খেলার আগের দিন থেকেই অন্য রকম অনুভূতি। শুধু মনে হচ্ছিল, কখন খেলা শুরু হবে, কখন দেখব।

রাত যেন আর কাটছিল না। রাতে ঠিকঠাক ঘুমটাও আর হলো না। পরের দিন দুপুরের খাবার খেয়ে কয়েক জন বন্ধু মিলে খেলা দেখতে গেলাম মণ্ডল ভাইয়ের দোকানে। তো খেলা শেষ হলো রাতে। আমরা হেরে গেলাম। অনেক মন খারাপ ছিল এমনিতেই তার ওপর বেশি রাত করে বাড়ি ফেরা দেখে মা তো রেগে গিয়ে বলেই দিলেন, ‘বাড়িতে আসার কী দরকার ছিল? সাকিবের বাড়িতে গিয়ে ঘুমালেই পারতিস।’ এমন অনেক ঘটনা আছে ক্রিকেট নিয়ে। অনেকেই ক্রিকেটপ্রেমী কিন্তু আমি মনে হয় একটু বেশিই ক্রিকেটপ্রেমী ছিলাম। তাই ভার্সিটিতে আমাকে সবাই মি. ক্রিকেট বলেই ডাকত। আমি গল্প করলেই তার টপিকস ক্রিকেট থাকতই। বাংলাদেশের খেলা চললে তখন তো আর কথাই নেই। ক্রিকেটের প্রতি এত বেশি নেশা ছিল যে আমার জিএফও এসব দেখে বিরক্ত হতো।

সেদিন ছিল বাংলাদেশ আর ভারতের খেলা। আমি যথারীতি খেলা দেখা নিয়ে ব্যস্ত। এদিকে ও বারবার ফোন দিচ্ছে। দেখা করতেই হবে। খেলা ছেড়ে যাব আমি! অসম্ভব! তা ওকে জানিয়ে দিলাম। ও রেগে গিয়ে বলে দিল, হয় ক্রিকেট ছাড়তে হবে নয়তো ওকে ছাড়তে হবে। এসব নিয়ে ওর সাথে আগেও ঝামেলা হতো। শেষমেশ প্রেমটা আর টিকল না। তারপর আমিও সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ে যদি করি তবে একটা ক্রিকেটপাগল মেয়েকেই করব, তা না হলে বিয়েই করব না। আমার এই সিদ্ধান্তের কথা সবাইকে জানিয়ে দিলাম। এমন পাত্রী খুঁজে পাওয়াটা খুব কষ্টকরই  হলো। কয়েক মাস পর আমার ছোট মামা হঠাত্ই আমার জন্য একটা পাত্রী ঠিক করল। পাত্রী নাকি বেশ ক্রিকেটপাগল। আমার আর কী চাই! জানিয়ে দিলাম ঐ পাত্রীকেই ঠিক করা হোক।

সামনেই ছিল বাংলাদেশ আর ভারতের এশিয়া কাপের টি-টুয়েন্টি ফাইনাল। ওর সঙ্গে আলাপ করে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ঐ দিনই আমরা বিয়ে করব। ব্যস, ঐ দিনই আমাদের বিয়ে হলো। বউ নিয়ে বাড়ি ফিরতেই ঘরে গিয়ে দেখি বউ নেই। অজানা শঙ্কা কাজ করল। একটু পরেই দেখি আমার বউ বাংলাদেশের জার্সি পড়ে টিভির সামনে বসে পড়েছে। আমার খুশি আর দেখে কে! ব্যস, আমিও জার্সি পড়ে খেলা দেখতে বসে পড়লাম। আজ আমাদের বাসর, আমার বউ আমার মতোই ক্রিকেটপাগল আর আজ আমরা একসাথে খেলা দেখছি, এমনটা

ভাবতেই মনটা খুশিতে ভরে গেল। আহা! কী আনন্দ আকাশে বাতাসে! বাসর রাতের অর্ধেকটা সময়ই গেল খেলা দেখে। খেলা শেষ হলো বাংলাদেশের পরাজয় দিয়ে। আমার খুশিও কোথায় যেন হারিয়ে গেল। বউয়ের দিকে তাকিয়ে দেখি বউ আমার অজ্ঞান! বউয়ের মাথায় পানি ঢালছি আর মনে মনে বলছি, ‘মামা, তোমার ভাগিনা ক্রিকেটের আর কী পাগল তোমার বউমা তো তারচেয়েও বেশি ক্রিকেটপাগল!’

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড