ফাইনাল শুরু বিকাল ৪টায়
স্পোর্টস রিপোর্টার
ফেডারেশন কাপ ফুটবলে ট্রফি এক সময় মোহামেডান ও আবাহনীর দখলে ছিল। মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টের ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে মোহামেডান বিচ্ছিন্ন হলেও আবাহনী আধিপত্য ধরে রেখেছিল। সেখানেও হাত বাড়িয়েছে অন্যদল। এবার ফাইনালে রহমতগঞ্জ ও বসুন্ধরা কিংস। আজ এই দুই দল ফুটবল উত্তেজনায় ভরিয়ে দেবে স্টেডিয়াম। ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুরান ঢাকার দল রহমতগঞ্জ এবং অভিজাত পাড়ার দল বসুন্ধরা কিংস।
স্টেডিয়ামে নিজেদের সমর্থক নিয়ে গ্যালারিতে বসাবে দুই দল। ফেভারিট বসুন্ধরা কিংস ১৩ দলের মধ্যে কাগজে-কলমে সবচেয়ে শক্তিশালী। তাদের দলে গোলকিপার হতে শুরু করে স্ট্রাইকার, সব পজিশনে রয়েছে নির্ভরযোগ্য সব ফুটবলার। সাইড বেঞ্চে শক্তিশালী যেসব খেলোয়াড় রয়েছেন তারাও সেরা একাদশের চেয়ে কোনো অংশে শক্তিশালী কম নয়। দুই দলের তালিকা এক নজরে দেখলে ধরেই নেওয়া যায় বসুন্ধরা এগিয়ে থাকবে অনেক দূর। আর যদি রহমতগঞ্জের পারফরম্যান্স বিচার করা হয় তাহলে ফেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রহমতগঞ্জ একটি ম্যাচেও হারেনি। সাইফ স্পোটিং ও শেখ জামালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে দুই ড্র, কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনীকে, সেমিফাইনালে মোহামেডানকে হারিয়ে আজ ফাইনালে রহমতগঞ্জ।
বসুন্ধরার হারের গ্লানি রয়েছে। তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাওয়ায় একাধিক ফুটবলারকে বিশ্রাম দিয়েছিল। সেই ম্যাচে হেরেছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে। তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি। সাইড বেঞ্চ থেকে খেলোয়াড় নিয়ে খেলানো হয়েছে। তবে বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেন আগেই জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ খুবই খারাপ। মাঠের বর্তমান অবস্থাকে গরু চড়ানোর জন্য উপযুক্ত বলেছেন তিনি। এই মাঠে ফুটবল খেলে ইনজুরি হওয়াই স্বাভাবিক, খেলোয়াড়রাও ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। ক্লান্ত ফুটবলারদের কাল বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ। সকালে জিম এবং সুইমিং, তারপরও পুরো বিশ্রাম। গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, দলের অধিনায়ক এবং কোষ্টারিকার কলিন্দ্রেস, কিরগিজস্তানের বখতিয়ার দুশভেকভ, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস দেলমন্তে, তাজিক নাজারভ, বিশ্বনাথ ঘোষ, ইয়াসিন খান, ইব্রাহিম, সুফিল, মতিন মিয়াদের ফুটবলে যোগ হতে পারে ইনজুরি কাটানো রবিউল হাসান।
মোহামেডানের বিপক্ষে রহমতগঞ্জের খেলা মনে দাগ কাটার মতো। ১১টি পজিশনে দর্শক চোখে পড়ার মতো নৈপুণ্য মেলে ধরেছে কোচ গোলাম জিলানীর রহমতগঞ্জ। দেশি কিংবা বিদেশি সব পজিশনেই ছিল ক্ষীপ্র গতির নৈপুণ্য। তাজিক ডিফেন্ডার আসরোভ, গিনির ডিফেন্ডার কামারা, দলের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড, অধিনায়ক মামুদু বাহ, উজবেক ফরোয়ার্ড তুরায়েভ আকবির, শাহেদুল, সানোয়ার, নাহিদ, সুহেল মিয়া, গোলকিপার লিটনদের ফুটবল এতো দূর পৌঁছে দিয়েছে রহমতগঞ্জকে। আজ ফাইনালে ট্রফি পেলে রহমতগঞ্জ ফুটবল দলের জন্য সেটি হবে প্রথম ইতিহাস। ফেডারেশন কাপে প্রথম ফাইনাল খেলছে ৭৭ সালের লিগ রানার্সআপ রহমতগঞ্জ।
ইতিহাস হতে পারে বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরার জন্যও। গত টুর্নামেন্টের ফাইনালে আবাহনীর কাছে হেরেছিল। এবার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে। তারা মনে করছে ট্রফি বসুন্ধরার। রহমতগঞ্জ কোচ গোলাম জিলানী বসুন্ধরার বুকে আঘাত করার জন্য প্রস্তুত। সুযোগ দেবে না বসুন্ধরা। প্রথম ৯০ মিনিটেই ম্যাচটা তুলে নিতে চায়, যেভাবে সেমিফাইনালে পুলিশকে থামিয়ে দিয়েছিল।