বৃষ্টি ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ
ইত্তেফাক ডেস্ক
গত কয়েকদিন বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া বোরো বীজতলা ও আমন ফসলসহ মৌসুমি সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
নীলফামারী : বোরো আবাদের বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নীলফামারীর কৃষকরা। ইতিমধ্যে অনেক বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। অনেকে পলিথিনে ঢেকে কুয়াশা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।
সদরের টুপামারী ইউনিয়নের শাপলাপাড়া গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে এবার বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চার কেজি বীজ সংগ্রহ করে বীজতলা তৈরি করেছেন ১৫ দিন আগে। কিন্তু কয়েকদিনের ঘন কুয়াশায় বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। একই ইউনিয়নের বন বিভাগপাড়া গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, ১৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদের জন্য ১৯ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেন। কিন্তু কুয়াশায় প্রায় নষ্টের পথে বীজতলা। এখন আবহাওয়া ভালো হলেও ঐ বীজতলা দিয়ে ১৩ বিঘা জমি রোপণ করা যাবে না বলে জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সিরাজুল ইসলাম বলেন, শৈত্যপ্রবাহ হলে বীজতলার অনেক ক্ষতি হয়। এবারের শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্ব কম হওয়ায় তেমন ক্ষতি হয়নি। বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করলে সেটিও সেরে উঠবে। তবে শীত থেকে রক্ষার জন্য বীজতলাগুলো সাদা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। রাতে সেচযন্ত্র দিয়ে মাটির নিচের গরম পানি বীজতলায় দিয়ে রাখতে হবে এবং কোনো বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করলে সেটি সারানোর জন্য ইউরিয়া ও জীপসাম প্রয়োগ করতে হবে।
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : ভাণ্ডারিয়ায় পৌষেও আষাঢ়ের মতো বৃষ্টি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত অবিরাম বর্ষণ এবং শনিবারও থেমে থেমে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে বৃষ্টিতে আমন ধান খেতে পানি জমায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষক। এদিকে বৃষ্টির কারণে শীতজনিত রোগ বেড়েছে। এছাড়া বৃষ্টিতে উপজেলার বাজারের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানি জমে পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ-আল মামুন জানান, অসময়ে বৃষ্টির ফলে আমন ধানে শতকরা ২০% এবং শীতকালীন শাকসবজির ১৫% ক্ষতি হয়েছে।
নলছিটি (ঝালকাঠি) : নলছিটিতে বৃষ্টির পানিতে আবাদি জমির খেসারি ডাল, সরিষা, ভুট্টা, তিল, মুলা, লালশাকের খেত নষ্ট হয়েছে। এছাড়া কনকনে ঠান্ডায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় শীতবস্ত্র কম্বল খুবই অপ্রতুল। কনকনে শীতে হতদরিদ্র মানুষের জন্য আরো পাঁচ সহস্রাধিক কম্বল জরুরি প্রয়োজন। নলছিটি উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ইতিমধ্যে রবি কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে।