বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নারীর

বিচারের দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি মূল্যবোধের অবক্ষয় নারীর ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এ জন্যে নিরাপদ যৌন শিক্ষা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আকাশ সংস্কৃতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পাশাপাশি পরধর্ম সহিষ্ণুতা অনুশীলনের চর্চা করতে হবে।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর এফডিসিতে ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষাবিষয়ক সচেতনতামূলক বিতর্ক’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি যৌথভাবে এই প্রীতি বিতর্কের আয়োজন করে। ‘রাইট হেয়ার রাইট নাউ’ প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় ‘আর নয় নীরবতা, বিতর্কে আসুক সচেতনতা’—এই প্রতিপাদ্যে বিতর্ক অন্বেষণ শিরোনামে জাতীয়ভিত্তিক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার ময়মনসিংহ বিভাগকে হারিয়ে ঢাকা বিভাগ জয়লাভ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, সকল স্তরে সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। নির্যাতন শুরু হয় যেখানে, সেখান থেকেই আমাদের প্রতিরোধের কাজ করতে হবে। নির্যাতনমুক্ত ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারপারসন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও শিক্ষকরা ক্লাসে তা পড়াতে অস্বস্তি বোধ করেন। শিক্ষার্থীদের ঐ বিষয়ে বাড়িতে পড়ে নিতে বলেন। বর্তমানে বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ১৬ দশমিক ১ বছর। এদের মধ্যে অধিকাংশই বিয়ের পিঁড়িতে বসা পর্যন্ত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানে না।

তিনি বলেন, কম বয়সে যৌনতার ক্ষতিকর দিক, অনিরাপদ গর্ভপাত, শারীরিক পরিবর্তন, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ যৌনরোগ সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদের স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে তারা বুঝতে পারবে কোনটা ভালো কোনটা মন্দ। কোনটা ভালোবাসার সম্পর্ক আর কোনটা অসত্ উদ্দেশ্যে গড়া সম্পর্ক।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের প্রশ্রয়ে অনেক সময় অপরাধীরা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায়, যা সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিতর্ক অনুষ্ঠানে ১০টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যৌন প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধিতে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার দূর করা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, নাটিকা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাইট হেয়ার রাইট নাও এর জাতীয় সমন্বয়কারী সারাবান তাহুরা জামান, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির কনসালট্যান্ট কামরুন নেসা হাসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার বি এ ওয়াহিদ নিউটন।