স্পোর্টস রিপোর্টার
মূলত তিনি ব্যাটসম্যান। কিন্তু চান্দিকা হাথুরুসিংহে তাকে পছন্দ করেছিলেন বোলিং দেখে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে ঠাঁই হয়েছিল জাতীয় দলে।
জাতীয় দলেও নিজেকে চিনিয়েছিলেন ব্যাটসম্যান হিসেবে। টুকটাক বোলিং করতেন। তবে সম্প্রতি বোলিংটাই সামনে চলে আসছে। ব্যাটে সেভাবে বড়ো ইনিংস খুব একটা খেলতে পারছেন না। কিন্তু জাতীয় দল বা বিপিএলে নিয়মিত উইকেট পাচ্ছেন। বিপিএলে ব্যাটসম্যানদের সেরা দশে না থাকলেও উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় সেরাদের তালিকায় আছেন!
সৌম্য সরকার কি তাহলে বোলিং অল রাউন্ডারই হয়ে গেলেন? না, তিনি তেমন চিন্তা করছেন না। তিনি ব্যাটিংটাকে আগের মতোই গুরুত্ব দিতে চান। কিন্তু ব্যাটে বড়ো ইনিংস বেশি পাচ্ছেন না বলে নিজের ওপরই একটু অসন্তুষ্ট এই ওপেনার। গতকাল বলছিলেন, শুধু নিজের নয়, দলের সব স্থানীয় ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আরো ভালো পারফরম্যান্স চেয়েছিলেন এই তারকা।
নিজের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে সৌম্য বলছিলেন, তিনি বোলিংটা উপভোগ করেন। কিন্তু ব্যাটিংটাই তার প্রথম পছন্দ। আর সেখানেই অসন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে নিজের ওপর, ‘বোলিং উপভোগ করছি। বোলিং করলে উইকেটও পাচ্ছি। উইকেট তো আসলে লাকের ব্যাপার। কিন্তু ব্যাটিংয়ে ঠিক সন্তুষ্ট না। তবে চেষ্টা করছি।’ সৌম্য মনে করেন, তার মতো আসলে সব স্থানীয় ক্রিকেটারের আরেকটু ভালো পারফরম করা উচিত ছিল। তার দলের সাফল্য খুব না আসার জন্য এই স্থানীয় খেলোয়াড়দের ফরমহীনতাকে দায় দিলেন সৌম্য, ‘একটা দলকে ভালো করতে হলে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ভালো খেলা লাগে। সত্যি বলতে, আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়রা সেরকম পারফরম করছে না। তারা ভালো করলে দলও ভালো করত। সবকিছু মিলিয়ে বাকি তিন ম্যাচে স্থানীয়রা ভালো করলে ঘুরে দাঁড়ানোও সম্ভব।’
স্থানীয় খেলোয়াড় বলতে গিয়ে সতীর্থদের দিকেই শুধু আঙুল তুলছেন না। নিজের ঘাড়েও দায়টা নিয়ে বললেন, ‘দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে তো আমি নিজেও আছি। যে ইনিংসগুলো ৩০-৪০ করে আউট হয়েছি ওগুলো বড়ো করতে পারলে ভালো হতো। গত দুই ম্যাচেও ভালো করলে হয়তো শীর্ষ দশে থাকতাম।’
সৌম্যদের দলের একটা সমস্যা হলো, কয়েক জন বিদেশি ইনফরম তারকা চলে গেছেন। সৌম্য অবশ্য মনে করেন না যে, এই যুক্তি দেওয়া ঠিক, ‘সেদিক থেকে বলতে গেলে দল ভারসাম্যপূর্ণ নয়। যার যার দিক থেকে সবাই চেষ্টা করছে। মূল খেলোয়াড় চলে গেছে—এমন ভাবলে খেলায় প্রভাব পড়বে।’