রূপকথা লেখা হলো না রহমতগঞ্জের
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
রূপকথার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল রহমতগঞ্জ। ৭৭ সালে এই ঢাকার মাঠে লিগের ফাইনালে আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হয়। রহমতগঞ্জ রানার্সআপ হয়েছিল। এত বছর পর আবার একটা ট্রফির দ্বারপ্রান্তে এসেও স্বপ্নপূরণ হলো না। শক্তিশালী দল বসুন্ধরা কিংস স্বপ্নপূরণ করে ফেডকাপের প্রথম ট্রফি জয় করে ঘরে ফিরেছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম টুর্নামেন্টের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস ২-১ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো। নিজেদের নাম চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় উঠিয়ে দিল।
নাটকীয় ফাইনালে হেরেছে রহমতগঞ্জ। নিজেদের ভুলে গোল হজম করে হেরে যায় রহমতগঞ্জ। লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা এবার ৩১তম ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ট্রফি জয় করায় আগামী বছর এএফসি কাপের প্লেঅফ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এএফসি কাপে খেলার সুযোগ তো আছেই এ বছর।
বসুন্ধরার অধিনায়ক কলিসেন্দ্রসই ছিলেন নায়ক। ট্রফি জয়ের কারিগর। টুর্নামেন্টের শুরু হতেই জ্বলে উঠেছেন। কিভাবে দলকে ফাইনালে তুলে নেওয়া যায় সেই লড়াই করে ট্রফি এনে দিয়েছেন বসুন্ধরাকে। দুই গোল করেছেন ফাইনালে।
বসুন্ধরার প্রত্যেক পজিশনের ফুটবলার ছিলেন সজাগ। রহমতগঞ্জের আক্রমণভাগ কিংবা মিডফিল্ড, কেউ ভাঙন ধরাতে পারছিল না। বিশেষ করে রক্ষণে ইয়াসিন খান, বিশ্বনাথ, তপু বর্মণের সঙ্গী ছিলেন ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম। তারপরও রহমতগঞ্জের মাহমুদু বাহ, তুরায়েভ আকবিররা পেরে উঠছিলেন না। ১৬ মিনিট না যেতেই রহমতগঞ্জ জ্বলে উঠল। বসুন্ধরার ওপর আক্রমণ করে দুই দুইবার সুযোগ বের করেও গোল বঞ্চিতই থাকল। আবার খেলাটা চলে যায় বসুন্ধরার হাতে। কলিন্দ্রেসই বসুন্ধরার আক্রমণে প্রাণভোমরা। বসুন্ধরা যখন গোল করছে, মাঠে তখন ১০ জনের রহমতগঞ্জ। তাজিক ফুটবলার আখতম নাজারভ আহত হয়ে মাঠের বাইরে। তার ফাঁকা জায়গা দখল করেই গোল আদায় করে নেয়। ৪০ মিনিটে বিশ্বনাথের কর্নারের বল কলিন্দ্রেস মাথা ছোঁয়ান ১-০।
দ্বিতীয়ার্ধে রহমতগঞ্জ শাহেদুল আলমের কর্নারে অধিনায়ক মাহমুদু বাহ মাথা ছোঁয়ান বসুন্ধরার জালে ১-১। বসুন্ধরা গোল হজম করে ১০ জনই রহমতগঞ্জের ওপর ঝাঁপায়। আক্রমণের স্রোতে ভেঙে পড়লেও গোলকিপার লিটন মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে বলটা ধরে ফেলায় বেঁচে যায় রহমতগঞ্জ। এরপরও নাজারভের সেটপিস দারুণভাবে সেভ দিয়ে গোলকিপার লিটন দর্শকের বাহবা তুলে নিলেন। কিন্তু কে জানতো কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই লিটনই রহমতগঞ্জের নায়ক থেকে ভিলেন হয়ে যাবেন। ১-১ গোলের খেলা, ৭৬ মিনিট চলছে। রক্ষণে গোলকিপার লিটনকে ব্যাকপাস দেন গিনির কামারা। লিটন বক্সে বল পায়ে রিসিভ করেই ওয়ানটাচে দুই-তিন গজ সামনে ঠেলে দেওয়া মাত্রই বসুন্ধরার অধিনায়ক কলিন্দ্রেস চিলের মতো ছোঁ মেরে বল নিয়েই ফাঁকা পোস্টে গোল করেন ২-১। সবাই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। এই লিটন ছয়-সাতটা সেভ দিয়েছেন। সেরা খেলোয়াড় মনোনীত হওয়াটা চূড়ান্তই ছিল প্রায়। বাজে একটা ভুলে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন লিটন। এক ভুলেই সব শেষ রহমগঞ্জের। রহমতগঞ্জ ফুটবলের রূপকথার নায়ক হতে পারতেন যিনি, যার হাতে ট্রফির সোনালি রং ছড়াত, সেই লিটনের একটা ভুলেই রহমতগঞ্জ এলাকার লাখ লাখ মানুষের স্বপ্ন ভেঙে টুকরো হয়ে গেল। রহমতগঞ্জের মানুষ যারা ঘরে বসে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন তারা প্রাণভরে দোয়া করছিলেন ফুটবল যুদ্ধ জয় করে অনেক প্রতীক্ষার স্বপ্নের মালা হাতে ঘরে ফিরবে, তা হলো না। ৪৩ বছর পর আবার এই ঢাকার মাঠে রানার্সআপের ট্রফি নিয়ে ফিরতে হলো।
রহমতগঞ্জ :
লিটন, আসরোরভ (তাজিকিস্তান) (শরিফ), নাহিদ, কামারা (গিনি), কিরন, সুহেল মিয়া (দিদারুল আলম), অধিনায়ক মাহমুদু বাহ (গাম্বিয়া), তুরায়েভ আকবির (উজবেকিস্তান), শাহেদুল আলম (এনামুল), সানোয়ার হোসেন।
বসুন্ধরা কিংস :
জিকো, ইয়াসিন খান, আখতম নাজারভ (তাজিকিস্তান), বিশ্বনাথ ঘোষ, তপু বর্মণ, নিকোলাস দেলমন্তে (আর্জেন্টিনা), অধিনায়ক কলিন্দ্রেস (কোস্টারিকা), ইব্রাহিম, সুফিল (ইমন বাবু), মতিন মিয়া (সবুজ), বখতিয়ার দুশেবেকভ (কিরগিজস্তান)।
রেফারি : জালাল উদ্দিন।