পাবনায় পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন কৃষক

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা অঞ্চলের কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন। মূল কাটা (কন্দ) পেঁয়াজ লাগিয়ে উত্পাদনকারী চাষিরা ইতোমধ্যে উচ্চমূল্য পেয়েছেন। আর তাই তাদের আগ্রহ বেড়েছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজাহার আলী জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুসারে দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টন। এর এক চতুর্থাংশের বেশি পেঁয়াজের যোগান হয় পাবনা জেলা থেকে। এ কারণে পাবনায় পেঁয়াজ আবাদ বাড়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে পাবনার ৯ উপজেলায় ৪৯ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই আবাদ থেকে প্রায় ৭ লাখ টন পেঁয়াজ উত্পন্ন হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে পেঁয়াজের আবাদ ত্বরান্বিত করার জন্য কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেক জমিতে পেঁয়াজের চারা লাগানো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আশা করা যায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজের ফলন হবে। আর এই পেঁয়াজ দেশের মোট চাহিদার এক চতুর্থাংশের যোগান দিতে পারবে।

জেলার সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলায় দেখা গেছে, পেঁয়াজ আবাদের জন্য ইতিমধ্যে ছোটো ছোটো প্লট করে চারা উত্পাদন করেছে কৃষক। মূল কাটা পেঁয়াজ লাগিয়ে আগাম যেসব পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছিল সেসব উচ্চমূল্যে বিক্রি করে দিয়েছেন কৃষকরা। মূল কাটা পেঁয়াজে খুশি সুজানগরের কৃষক ইসহাক আলি। তিনি বলেন, তিনি বাড়ি সংলগ্ন ১৬ শতক জমিতে মূল কাটা পেঁয়াজ লাগিয়েছিলেন। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি করেছেন। যেহেতু দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে, তাই আবার চারা পেঁয়াজ লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ১৬ শতক জমির পেঁয়াজ তিনি ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তার দাবি, মৌসুমী পেঁয়াজ চৈত্র-বৈশাখ মাসে ঘরে ওঠার সময় যেন বিদেশ হতে আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। না হলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে না।

সাঁথিয়ার নারিন্দা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক দুলাল সরকার বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে জমিতে পেঁয়াজ লাগাবো, মাস তিনেক পর ঘরে তুলতে পারব। তবে তিনি দুঃখ করে বলেন, পেঁয়াজ করে লাভ কী। রাখার জন্যে হিমাগার তো নেই। পেঁয়াজ সারা বছর রাখা গেলে অন্য দেশ থেকে তো আর আনতে হয় না। পাবনায় সবজি, পেঁয়াজ, রসুন ও শিম পর্যাপ্ত হয়। এগুলো সংরক্ষণের জন্য জেলায় একটা হিমাগার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এদিকে পাবনা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফারুক হোসেন জানান, চলতি রবি মৌসুমে রাজস্ব খাতের আর্থিক সহায়তায় সুজানগর ও আটঘরিয়া উপজেলায় ১০০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে সার সুপারিশমালা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজের উত্পাদন বাড়বে। বাকি সাত উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা ও আর্থিক যোগান না থাকায় পেঁয়াজ আবাদের জন্য সার সুপারিশমালা দেওয়া সম্ভব হয়নি।