ঝুঁকি নিয়ে কেনাবেচা
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসদরের রেলক্রসিং এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মাঝখানেই বসেছে কাঁচা তরকারির অবৈধ দোকান। প্রতিদিন এই রেলপথে গড়ে ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ইতিপূর্বে ঐ এলাকায় রেল দুর্ঘটনায় একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঐ স্থানে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালালেও নিয়মিত তদারকির অভাবে কিছুদিন পর আবার আগের জায়গায় অবৈধ দোকান বসানো শুরু হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বারইয়ারহাট পৌরসদরের রেলক্রসিং এলাকায় ট্রেন আসার হুইসেল শোনামাত্রই দৌড়ঝাঁপ দিয়ে রেললাইন থেকে সরতে শুরু করে দোকানিরা। ট্রেন চলে গেলে আবার রেলপথের মাঝখানে দোকান বসিয়ে চলে কেনাবেচা। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে রেলপথের মাঝখানে প্রতিদিন দোকান বসায়। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে।
রেলপথের ওপর অবৈধ দোকান কেন বন্ধ হচ্ছে না জানতে চাইলে উপজেলার চিনকি আস্তানা রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মঈনুল হুদা মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, আমরা ঐ দোকানগুলো উচ্ছেদের জন্য গেলে বিভিন্নভাবে নাজেহাল হতে হয়। বারইয়ারহাট পৌরসদরের রেলক্রসিং এলাকায় রেলপথের ওপর অবৈধ দোকান বন্ধ করার ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষ ও বাজার কমিটির কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে বারইয়ারহাট বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতউল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, আমরা কয়েকবার এই অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু রেলওয়ের গেটম্যান টাকা নিয়ে আবার তাদেরকে ঐ জায়গায় দোকান করার সুযোগ করে দেয়।
এ ব্যাপারে বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র মো. নিজামউদ্দিন বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বারইয়ারহাট রেলক্রসিং এলাকায় রেলপথের ওপর অবৈধ দোকানপাট বন্ধ করার জন্য চার বার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু স্থানীয় কিছু অসাধু লোকের সহায়তায় তারা আবার ঐ স্থানে ঝুঁকি নিয়ে দোকানপাট বসায়।