গ্লাইফোসেট-সমৃদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহার রোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ হাইকোর্টের

গ্লাইফোসেট-সমৃদ্ধ সব কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এ ধরনের কীটনাশকের ব্যবহার থেকে সরে আসতে তিন মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বেসরকারি সাতটি সংগঠনের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ক্ষতি সৃষ্টিকারী কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে মনিটর করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। রুলে গ্লাইফোসেট-সমৃদ্ধ কীটনাশকের লাইসেন্স প্রদান এবং এর নবায়ন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা-ও জানতে চেয়েছে আদালত। কৃষিসচিব, স্বাস্থ্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই            রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত বছরের গ্লাইফোসেট-সমৃদ্ধ ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)সহ সাতটি সংগঠন। অন্য সংগঠনগুলো হলো :উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ), এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিসউক) ও বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক)।

রিটে বলা হয়, উন্নত বিশ্বে গ্লাইফোসেটের ব্যবহার থেকে  সরে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বাংলাদেশে অন্তত ৭৯ ধরনের প্রচলিত কীটনাশকে গ্লাইফোসেটের উপস্থিতি রয়েছে। মূলত ইক্ষু ও চা-বাগানে গ্লাইফোসেট-সমৃদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করা হয় দাবি করা হলেও বেলার মাঠ পর্যায়ে গবেষণায় এটা স্পষ্ট যে ইক্ষু ও চা চাষ হয় না দেশের এমন অঞ্চলেও অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্লাইফোসেট-সমৃদ্ধ রাউন্ডআপ ও অন্যান্য কীটনাশক বিক্রি ও ব্যবহূত হচ্ছে। এ কারণে কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে এবং গ্লাইফোসেট-সমৃদ্ধ রাউন্ডআপসহ অন্যান্য কীটনাশকের আমদানি, বিক্রয়, বিপণন, ব্যবহার রোধের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিট আবেদনে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন বেলার প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তৌফিক সাজোয়ার। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ আদেশ দেয়।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ২০১৫ সালে ক্যানসার গবেষণাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আএআরসির একটি প্রকাশনায় গ্লাইফোসেট উপাদানটিকে মানুষের জন্য সাম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী আখ্যা দেওয়া হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিপণ্য বিপণনকারী মনসান্টোর বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মামলা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলায় সানফ্রানসিসকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার তিনটি আদালত গ্লাইফোসেট-সমৃদ্ধ রাউন্ডআপ ব্যবহারে ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গকে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যে ঐ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ভারতের পাঞ্জাব ও কেরালা, বাহরাইন, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, ডেনমার্ক, ফ্রান্সসহ বেশ কিছু দেশ গ্লাইফোসেট নিষিদ্ধ বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এটা নিষিদ্ধ করতে নিরাপদ বিকল্প প্রবর্তন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এর ব্যবহার চলছে। এটা বন্ধ করা জরুরি।