প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, চলতি বছরে বিদেশে সাড়ে ৭ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছরে আরো পাঁচ থেকে ছয়টি শ্রমবাজারও খুলবে। তবে নির্ধারিত খরচে কর্মীদের যাওয়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার পক্ষে নন তিনি। নতুন করে কোনো সিন্ডিকেট যাতে গড়ে না ওঠে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। নতুন বছরে সরকারের শ্রমবাজার পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালে সাড়ে ৬ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখানে ৭ লাখ ১ হাজার কর্মী গেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। কিছু নীতিগত বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য দেরি হচ্ছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলাপ হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এ নিয়ে কাজ করছে। তবে আমাকে আগে নিশ্চিত করতে হবে যে, কর্মীরা নির্ধারিত খরচে কীভাবে যেতে পারে। এটা হলো আমার মূল লক্ষ্য। এই জায়গা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি শ্রমবাজারটি খুলতে রাজি নই। এটা না হলে কিন্তু সব দায় আমার ওপর আসবে, সরকারের ওপর আসবে। তিনি বলেন, আগের মতো ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করে কর্মী সে দেশে যাবেন আর জঙ্গলে লুকিয়ে বেড়াবেন, ঐ ধরনের কোনো চুক্তি করা হবে না। সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই কর্মীরা বিদেশ যাবেন।
মন্ত্রী বলেন, নারী কর্মী নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত মাসে অভিযোগ কমেছে। নারীরাও আগের মতো ফিরছেন না। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ২০১৮ সালের চেয়ে গত বছর কর্মী কম যাওয়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বে চাহিদার পরিবর্তন এসেছে। এখন দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি। এ কারণে দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে আমরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়া, জাপান আমাদের কাছে আইটিতে দক্ষ কর্মী চায়। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টসের (আরবিএম) আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সচিব মো. সেলিম রেজা লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিদেশগামী নারী কর্মীদের সামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তাই নারী কর্মীদের অভিবাসনে অধিকতর সুরক্ষা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময় বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুল আলম, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, আরবিএম-এর সভাপতি ফিরোজ মান্না, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।