সাভারে গৃহবধূকে ধষ্যণ ও হত্যা

মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

সাভারে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনার মূলহোতাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ মোসা. হাজিরা বেগম টুকটুকির (২০) মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে শুক্রবার মধ্যরাতে সাভার ও কেরানীগঞ্জ থেকে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ঐ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আটককৃতদের হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল দুপুরে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো—সাভার পৌর এলাকার উত্তর জামসিং মহল্লার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে জনি (২৪), শুকুর আলীর ছেলে সেলিম (২২) ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ লক্ষ্মীবরদী এলাকার মৃত ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জুয়েল (২৮)।

নিহত হাজিরা বেগম টুকটুকির গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি তার স্বামী মিল্লাতের সঙ্গে সাভার পৌর এলাকার বনপুকুর মহল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। মিল্লাত সাভারের ফুটপাতে ব্যবসা করে। পুলিশ জানায়, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৫ ডিসেম্বর গৃহবধূ টুকটুকির মোবাইলে ফোন করে তাকে বাড়ি থেকে উত্তর জামসিং এলাকায় ডেকে নেয় জনি। পরে তার দুই সহযোগী সেলিম ও জুয়েলসহ তিন জন মিলে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর লাশটি প্রথমে জনির বাড়িতে লুকিয়ে রাখে এবং সেটি গুম করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। পরে ২৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে টুকটুকির লাশটি জামসিং এলাকায় ফেলে রেখে যায় তারা।

সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে উত্তর জামসিং মহল্লার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে গৃহবধূ টুকটুকির হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় নিহতের মোবাইল ফোনে গ্রেফতারকৃত জনির নম্বর সেভ করা ছিল। সেই সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শুক্রবার মধ্যরাতে সাভার ও কেরানীগঞ্জের পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে জনি, সেলিম ও জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাদেরকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।