সিলেট থেকে ভারত সীমান্তবর্তী তামাবিলের দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। এ পথে প্রকৃতির দৃশ্যপট অসাধারণ। পাহাড়ের যে কত রূপ, সবুজের যে কত শোভা, তা না দেখলে বলে বোঝানো কঠিন। চলার পথে চোখে পড়ে বনাঞ্চল, চা বাগান। আদিগন্ত সমভূমি উঁকি দিয়ে যায়। তামাবিলে এসেই দেখা মেলে ডাউকি নদীর ওপরে দোলনা সেতু। মেঘালয় রাজ্যের শহর ডাউকি। ডাউকি নদী পারাপারের এই দোলনা সেতু ব্রিটিশরা ১৯৩১ সালে তৈরি করেছিল। এখানে মোড়ের মাথা থেকে রাস্তা উঠে গেছে তামাবিল চেকপোস্টে। আর আধ কিলোমিটার এগোলেই ডাউকি বাজার।
সিলেট থেকে তামাবিলে আসতে ২ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। বনপথ পেরিয়ে সিঁড়ি ভেঙে নদীর ঘাটে নেমে আসা যায়। ডাউকি নদীর আসল নাম ‘উমগট’। ওপারে এই নদীর তীরে রয়েছে তিনটি গ্রাম—ডাউকি, দারাংগ এবং শনংপেডং। নৌকো ভাড়া করে ভেসে পড়া যায় উমগটের বুকে। তখন দেখা যায় দুটি দেশ—বাংলাদেশ আর ভারত। নৌকোয় বসে তখন হয়তো মনে পড়বে তালাত মাহমুদের গাওয়া ‘দুটি পাখি দুটি তীরে মাঝে নদী বহে ধীরে’ গানের কথাগুলি।
সব ঋতুতে তামাবিলে আসা যায়। নদীতীরে বসলে চোখে পড়ে—পাহাড়ের ছায়া পড়ে পান্না-সবুজ রং ধারণ করেছে উমগট নদীর জলরাশি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় কাচের ওপরে রাখা আছে নৌকোগুলো। শীতকালে তামাবিলে রংবেরঙের তাঁবু ফেলে ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা যেতে পারে। এ আয়োজনের ব্যবস্থা তো প্রথমে পর্যটন করপোরেশনকেই করতে হবে। তবেই তো পর্যটকরা উত্সাহিত হবে তামাবিলে যেতে। ঘন অরণ্য, চা বাগান, পাহাড়, পাহাড়িয়া নদী দেখার অপরূপা মায়াবী জনপদ হলো এই তামাবিল। এখানে নদীতীরে বসে প্রকৃতির রূপসুধা পান করেই সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়।