ঝিনাইদহে এক বছরে খুন আট শিশু-কিশোর!

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

২০১৯ সালে ঝিনাইদহ জেলায় তিন শিশু ও পাঁচ জন কিশোর-কিশোরী খুন হয়েছে। আর গত বছর ৪৭টি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ পোস্টমর্টেমে পাঠায়। খুন হওয়া শিশুরা হলো : বিল্লাল হোসেন, জুয়েল রানা ও আল আমিন। নিহত কিশোর-কিশোরীরা হলো :  মেহেদী হাসান,  আসলাম আলি,   সোহেল রানা,  শহিদুজ্জামান সিফাত ও আয়েশা আকতার।  

গত বছরের ৩ জানুয়ারি সদর উপজেলার মুরারিদহ গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র বিল্লাল হোসেন (১০) খুন হয়। বাড়িতে একটি কুকুর ঢুকেছিল। কুকুরটিকে তাড়া করে বাড়ির বাইরে আসে বিল্লাল হোসেন। এরপর সে আর বাড়ি ফিরেনি। পরেরদিন বাড়ির পাশের একটি কলাবাগানে তার লাশ পাওয়া যায়। শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। ১ অক্টোবর রাতে শৈলকুপা উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র  জুয়েল রানাকে ( ১২) বাড়ির পাশের ধান খেতে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ খুনের ঘটনায় জুয়েল রানার সহপাঠি একই গ্রামের সাগর হোসেন ও সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সাগর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। 

কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র আল আমিন ৩০ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। তিন দিন পর তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৬ নভেম্বর দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে খুন হয় শহরের ওয়াজির আলি হাইস্কুলের ছাত্র সদর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের নজরুল মিয়ার ছেলে শহিদুজ্জামান সিফাত (১৬)। পুলিশ লিমন ও সুজন নামে দুজনকে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ও  গাবলা গ্রামে দুই শিশু ধর্ষিত হয়। পুলিশ দুই জন কিশোর ধর্ষককে গ্রেফতার করে।  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস আট শিশু-কিশোর খুন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ দুএকটি বাদে সবগুলো খুনের ঘটনা তদন্তে উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করেছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, কিশোর অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে। ঝিনাইদহ জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন বলেন, কিশোররা খুন-ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়া সবার জন্য উদ্বেগজনক।  আর এ ব্যাপারে পুলিশ ও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।