ইত্তেফাক রিপোর্ট
আমের জুস ও কোমল পানীয় তৈরিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন স্থাপন করে উত্পাদন শুরু করেছে দেশের অন্যতম বৃহত্ পানীয় উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। এ লক্ষ্যে ঢাকার ধামরাইয়ে নিজস্ব কারখানায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ‘অ্যাসেপটিক’ প্রযুক্তি চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত প্রতিষ্ঠানটির ‘ফ্রুটিকা’ ব্র্যান্ডের জুস উত্পাদনে প্রাথমিকভাবে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এশিয়ায় এ ধরনের প্রযুক্তি এটিই প্রথম। আমের পাল্প (মন্ড) থেকে পরবর্তী পুরো উত্পাদন প্রক্রিয়া এবং প্যাকিং এ প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে কোনো ধরনের জীবাণু-এর সংস্পর্শে আসতে পারে না। এ প্রযুক্তিতে উত্পাদনের মাধ্যমে বিদ্যমান কোমল পানীয় বাজারের বড়ো একটি অংশ দখল করতে চায় আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ।
গত রবিবার ধামরাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির নতুন অ্যাসেপটিক প্রযুক্তির উত্পাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এ সময় বলা হয়, অ্যাসেপটিক প্রযুক্তিতে পানীয় জীবাণুমুক্ত রাখতে তরল পণ্যকে জীবাণুমুক্ত পাত্রে রেখে প্যাকেট বা বোতলজাত করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্যাকেজিং বা বোতলজাতকরণের সময় কোনো ধরনের বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। ফলে আমের পাল্প থেকে উত্পাদিত জুসের গুণমান ৯ মাস পর্যন্ত ঠিক থাকে। এছাড়া একই প্রক্রিয়ায় আম থেকে পাল্প তৈরি করা হয়। ফলে কোনো ধরনের প্রিজারভেটিভ (সংরক্ষণের জন্য ব্যবহূত কেমিক্যাল) ছাড়া দুই বছর পর্যন্ত ঐ পাল্প নিরাপদ থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক ও প্ল্যান্টের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মো. নূর ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে স্বল্প পরিসরে উত্পাদন প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে নতুন এ প্রযুক্তিতে ফ্রুটিকা উত্পাদন করা হবে। নতুন এ প্রযুক্তিতে প্রতিদিন ১২ লাখ ৯৬ হাজার পিস বোতল উত্পাদন করতে পারে এবং একসঙ্গে ১ লাখ ৩৫ হাজার লিটার জুস মিক্সিং করতে পারে।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আকিজের নিজস্ব প্ল্যান্টে আমের মৌসুমে সংগ্রহ করা আম থেকে নতুন এ প্রযুক্তিতে পাল্প তৈরি করা হয়। সেখান থেকে আমের পাল্প নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ঢাকার কারখানায় এনে জুস তৈরি ও বোতলজাত করা হয়।