টটেনহ্যামের ঘোর দুর্দিন
স্পোর্টস ডেস্ক
ছুটতে থাকা লিভারপুল সর্বশেষ এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে ‘মার্সিসাইড ডার্বি’তে এভারটনকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। গত রবিবার দিনের অন্য ম্যাচে টটেনহ্যাম হটস্পার হারাতে ব্যর্থ হয়েছে দুর্বল মিডসবোরোকেও। কোচ হোসে মরিনহোর দলের ১-১ ড্রয়ের দিনে চেলসি ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে।
ক্লাব বিশ্বকাপের সঙ্গে সূচি মিলে যাওয়ায় ডিসেম্বরে কারাবাও কাপে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে নকআউট পর্বে একেবারে আনকোরা দল নামিয়ে ৫-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছিল লিভারপুল। এটি ছাড়া ঘরোয়া সব প্রতিযোগিতায় কোচ য়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা ছুটছে দুরন্ত বেগেই।
ইংল্যান্ডের মার্সিপাড়ের দ্বৈরথটি নিয়ে সাবেক লিভারপুল কোচ বিল শ্যাঙ্কলি মজার ছলেই বলেছিলেন, ‘শহরের সেরা দুটি দল লিভারপুল আর লিভারপুলের বেঞ্চ।’ শেষ ২০ বছরে যেন দলটি সাবেক কোচের বক্তব্যকে ধ্রুবসত্য প্রমাণিত করার পণই করে বসেছে। লিভারপুলের মাঠে যে চলতি শতাব্দীতে একবারও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি এভারটন! তবে ৭৪০৫ দিন পর গত রবিবার রাতে অ্যানফিল্ডে জয়ের একটা দারুণ সুযোগই এসেছিল এভারটনের সামনে।
কোচ ক্লপ ঠাসবুনোটের সূচি থেকে প্রথম একাদশকে কিছুটা বিশ্রাম দিতে এদিন নামিয়েছিলেন আনকোরা এক একাদশ; যেখানে জেমস মিলনার, দিভোক অরিগি, অ্যাডাম লাল্লানা আর গোলরক্ষক আদ্রিয়ান ছাড়া পরিচিত মুখই ছিল না তেমন। দলে নতুন আসা তাকুমি মিনামিনোও এদিন সুযোগ পেয়েছিলেন প্রথমবারের মতো।
অচেনা লিভারপুলকে প্রথমার্ধে রুখলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর আটকাতে পারেনি কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তির শিষ্যরা। ৭১ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে কুরতিস জোন্সের বাঁকানো শটে পাওয়া গোল জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক দলটির।
আনকোরা দল নিয়েও পাওয়া জয়ে লিভারপুল কোচ ক্লপ স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত, ‘তেমন অভিজ্ঞতা নেই এমন এক দলের দারুণ একটা পারফর্ম্যান্সই দেখলাম আজকে। এখানে অনেকেই আছে যারা প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছিল। এতো বেশি দর্শকের সামনে এমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াটা সহজ ছিল না। এটা দুর্দান্ত ছিল। ম্যাচের প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করেছি আমি।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘যদি আপনি লিভারপুলের খেলোয়াড় হন তবে ক্লাবের বৈশিষ্ট্যগুলোকে সম্মান করতে হবে আপনাকে। আমরা সবসময় সেরা ফুটবলটা খেলতে পারব না কিন্তু লড়তে পারব যা অন্যরা পারে না। যতদিন পর্যন্ত আমরা এই বৈশিষ্ট্যটা ধরে রাখতে পারব ততদিন আমাদের বিপক্ষে খেলাটা কঠিনই হবে।’
এদিকে টটেনহ্যাম যেন দুঃসময়কে পেছনে ফেলতে পারছে না কোনোভাবেই। আগের ম্যাচে প্রিমিয়ার লিগে সাউদাম্পটনের কাছে হেরেছিল তারা। চোটের কারণে হারিয়েছিল ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন আর ট্যাংগুয়ে এন্ডম্বেলেকে। মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগে দুই জনের শূন্যতায় দলটাকে ভুগিয়েছে ভালোভাবেই। গত রবিবার রাতে মিডলসবোরোর বিপক্ষে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫০ মিনিটে পিছিয়েই পড়েছিল তারা। এরপর অবশ্য ৬১ মিনিটে লুকাস মৌরার গোলে ড্র নিয়েই ফেরে কোচ মরিনহোর শিষ্যরা।
দলটির পর্তুগীজ কোচ অবশ্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন, ‘আমাদের স্ট্রাইকার কিংবা তাদের রক্ষণ অঞ্চলে শক্তি নিয়ে খেলার মতো খেলোয়াড় ছিল না। এমন সময়ে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ভেবেছিলাম, বিপদেই পড়ে গেছি। তারপর সবাই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। শেষ ২০ মিনিটে ভালো খেলেছিলাম আমরা। কেবল দ্বিতীয় গোলটাই পাইনি।’
চেলসি দিনের অন্য ম্যাচে ক্যালম হাডসন ওডোই আর রোস বার্কলের গোলে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে সহজেই হারিয়েছে।
এক নজরে
লিভারপুল ১ : ০ এভারটন
টটেনহ্যাম ১ : ১ মিডসবোরো
চেলসি ২ : ০ নটিংহ্যাম ফরেস্ট