বোলিং কোচ হচ্ছেন গিবসন!

স্পোর্টস রিপোর্টার

শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট হঠাত্ করেই দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের ডাক শুনে দেশে ফিরে গেছেন। ফলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বোলিং কোচের পদটা এখন ফাঁকাই পড়ে আছে। এই সময় জানা গেলো, এই পদে নিয়োগ পেতে পারেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রধান কোচ ওটিস গিবসন। গতকাল তিনি নিজেই জানালেন এই কথা। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিশ্চিত করলো, বোলিং কোচ খোঁজার জন্য যে সংক্ষিপ্ত তালিকা হয়েছে, সেখানে আছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই বোলিং কোচ।

গিবসন এবার বাংলাদেশে এসেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কোচ হিসেবে। গতকাল সেই ভূমিকাতেই সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসেছিলেন। এসে তিনি স্বীকার করলেন, বোলিং কোচ হওয়ার জন্য আলোচনা চলছে বিসিবির সাথে, ‘আমি জানতাম, প্রশ্নটি আসবে। আলোচনা চলছে, অবশ্যই চলছে। এটা আমি অস্বীকার করব না। তবে চূড়ান্ত কিছু হওয়া এখনো অনেক অনেক দূর। তবে আলোচনা চলছে।’

কোচ হিসেবে অত্যন্ত হাই প্রোফাইল মানুষ এই ওটিস গিবসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২টি টেস্ট ও ১৫টি ওয়ানডে খেলা এই ক্যারিবিয়ান ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১০ সালে ফিরে যান নিজের দেশের দায়িত্ব নিতে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করেন তিনি। সে বছরই আবার ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৭ সালে গিবসনকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। গেল বছর বিশ্বকাপের ব্যর্থতার জের ধরে আর গিবসনের মেয়াদ বাড়ায়নি ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ)। তখন, বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হওয়ার একটা গুঞ্জন ছিল। তবে, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সাথে তার ব্যাটে বলে হয়নি।

সর্বশেষ কোনো জাতীয় দলের দায়িত্বে না থাকা গিবসন এবার যুক্ত হতে পারেন বাংলাদেশ দলের সাথে। তিনি বলছিলেন, তিনি এই ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন। ফলে সেটা হলে খুশি হবেন এই বারবাডোজে জন্ম নেওয়া সাবেক ফাস্ট বোলার, ‘দেখি কী হয়। অবশ্যই আমি ক্রিকেট ভালোবাসি ও বোলারদের কোচিং করাতে পছন্দ করি। যদি এখানে এসে কাজ করা ও তরুণ ফাস্ট বোলারদের শেখানোর সুযোগ হয়, আমি অবশ্যই সুযোগটি নিতে চাইব।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে আগে কখনোই কাজ করেননি গিবসন। তারপরও বলছেন, জাতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পেলে তিনি সামলাতে পারবেন। ইতিমধ্যে কিছু ক্রিকেটারকে চিনেছেন বলেও বলছিলেন তিনি, ‘কিছু ক্রিকেটারকে আমি এর মধ্যেই চিনতে পেরেছি। আল আমিন আছে আমাদের দলে, সে জাতীয় দলের পেসার। একটা সম্পর্ক তাই গড়ে উঠেছে। আমি নিজেও ক্রিকেটার ছিলাম, তাই ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে গড়ে তুলতে হয়, জানা আছে আমার। এখানে এসে তাই তরুণ পেসারদের, এমনকি অভিজ্ঞদেরও কিছু শেখাতে আমার সমস্যা নেই।’