‘ইউনিভার্স বস’ এখন ঢাকায়

দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

ভ্রমণ ক্লান্তির জন্য ঢাকায় এসেই এবার আর অনুশীলনে আসেননি। ফলে তার মুখ থেকে ‘ইউনিভার্স বস ইন টাউন’ জাতীয় কোনো বাক্য এবার আর শোনা হলো না। তবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অন্যান্য খেলোয়াড়দের আশা আজ ব্যাট দিয়েই তিনি নিজের আগমনের ঘোষণা দেবেন।

হ্যাঁ, সেই প্রত্যাশায় চট্টগ্রামকে রেখেই গতকাল ঢাকায় পৌঁছেছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সম্রাট ক্রিস গেইল।

গেইল মানেই ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেট। টেস্ট যতোদিন খেলেছেন, সেখানেও নিজের ছাপ রেখেছেন; দুটো ট্রিপল সেঞ্চুরি আছে। ওয়ানডেও আছে ডাবল সেঞ্চুরিসহ বলার মতো অনেক রেকর্ড। কিন্তু টি-টোয়েন্টি যেনো সত্যিকারের গেইলের খেলা। এই খেলাটার অনেক রেকর্ড গেইলের দখলে। দুনিয়ার যে কোনো প্রান্তে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট মানেই সেখানে গেইলের ছক্কা উত্সব।

বিপিএলও শুরু থেকেই গেইলের নানা রেকর্ড দেখেছে। এবার অবশ্য তার আশা নিয়ে একটু সংশয় ছিল। তাকে প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে দলে ভিড়িয়ে ছিল চট্টগ্রাম। সেই সময় তিনি মাত্রই দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি শেষ করে দেশে ফিরেছেন। নিজের নাম বিপিএলের একটা দলে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, তিনি জানেন না যে, তার নাম বিপিএলে কিভাবে এলো। তিনি বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে আলোচনায় সব সমস্যার সমাধান হয়েছে। গতকাল বিপিএলের বাকী অংশ খেলতে চলে এসেছেন তিনি।

আজ চট্টগ্রামের হয়ে রাজশাহীর বিপক্ষে মাঠে নামার কথা তার। ইতিমধ্যে সেরা চার নিশ্চিত করে ফেলা চট্টগ্রাম চায় বাকী ম্যাচগুলোতে গেইল জ্বলে উঠে তাদের শিরোপা এনে দেবেন। দলটির উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান বলছিলেন, গেইলের উপস্থিতি দলকে অনুপ্রাণিত করবে, ‘বিপিএলে তাঁর অতীত রেকর্ড অনেক ভালো। আমরা সবাই জানি ও যেদিন খেলে দলের ওপর অন্যরকম একটা ইফেক্ট পড়ে অন্য টিমের জন্য। আমাদের জন্য অবশ্যই ভালো দিক সে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।’

অবশ্য গেইলকে নিয়ে ভীত নন প্রতিপক্ষ রাজশাহীর খেলোয়াড় তাইজুল ইসলাম। তিনি বলছিলেন, ‘গেইল এসেই প্রতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করবে তা তো না। গেইল শূন্য রানেও আউট হয়েছে। সে বড়ো প্লেয়ার তাকে সম্মান করা উচিত। সে যদি দাঁড়িয়ে যায় খেলাটা অন্যরকম হতে পারে। সে যদি তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যায় ভিন্ন খেলা হতে পারে।’

গেইলকে কখনো কখনো বোলাররা বিপিএলে আটকে রাখতে পারেননি, তা নয়। তবে বেশিরভাগ সময়ই এই টুর্নামেন্টে তার ব্যাট হেসেছে। এই বিপিএলে ৩৮টি ম্যাচ খেলেছেন এবারের আগে পর্যন্ত। তাতে ৪১.৮১ গড়ে ১৩৩৮ রান করেছেন তিনি; স্টাইক রেট ১২৯.২৯। গুনে গুনে ৫টি সেঞ্চুরি করেছেন বিপিএলের ইতিহাসে; ৯টি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন তিনি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১২০টি ছক্কা তার। কৃতিত্বটা বুঝতে জেনে রাখুন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭০টি ছক্কা তামিম ইকবালের।

এক ম্যাচে ১০টার বেশি ছক্কা মেরেছেন ৫ বার। যেখানে এক ম্যাচে ১০টার বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড আছে একবার করে তামিম ইকবাল ও এভিন লুইসের। 

এমন খেলোয়াড়ের জন্য বিপিএল অপেক্ষা করে থাকবে, তাতে আর বিস্ময়ের কী আছে। এখন দেখার ব্যাপার, এবার বিপিএলে কতোটা ‘গেইল শো’ দেখা যায়।