ব্যাটিং-বোলিং দৃঢ়তায় অজিদের বড়ো জয়

হোয়াইটওয়াশ হলো নিউজিল্যান্ড

 স্পোর্টস ডেস্ক

চতুর্থ দিনে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার নায়ক তিনজন। ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি পেয়েছেন ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। তিনে নামা মার্নাস লাবুশেনও যথারীতি দারুণ ফর্ম ধরে রেখে ব্যাট করেছেন। এরপর বোলিংয়ে ঠিক আগের দিনের মতোই রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন অফ স্পিনার নাথান লিঁও। ব্যস, তাতেই বড়ো জয় নিশ্চিত হলো অস্ট্রেলিয়ার বড়ো জয়।

তৃতীয় টেস্টটায় একদিন হাতে রেখেই জিতে গেল স্বাগতিকরা। জয়ের ব্যবধান ২৭৯ রানের। ফলে, তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হারল নিউজিল্যান্ড। হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেল টম ল্যাথামের দল।

ম্যাচে ১০ উইকেট পেলেন অফ স্পিনার লায়ন। প্রথম ইনিংসে ৬৮ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট, এবার পেলেন ৫০ রানে। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার ম্যাচে পেলেন ১০ উইকেট, ইনিংসে পাঁচ উইকেট হলো ১৮ বার। যদিও ডাবল সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করে লাবুশেনই জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। যথারীতি সিরিজ সেরার পুরস্কারও উঠেছে তারই হাতে।

বিনা উইকেটে ৪০ রান নিয়ে দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যায় ওয়ার্নার ও জো বার্নসের ব্যাটে। এলবিডব্লিউর সফল রিভিউ নিয়ে বার্নসকে ফিরিয়ে ১০৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন টম অ্যাস্টল।

দ্বিতীয় উইকেটে আরেকটি শতরানের জুটি গড়েন ওয়ার্নার ও মার্নাস লাবুশেন। আগের পাঁচ ইনিংসে থিতু হয়েও ইনিংস বড়ো করতে না পারা ওয়ার্নার এবার পান তিন অঙ্কের দেখা। ২৪তম সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া বাঁ-হাতি এই ওপেনার ৯ চারে ১৫৯ বলে করেন ১১১ রান।

প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান লাবুশেনের সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করছিলেন পেইন। দারুণ ছন্দে থাকা টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান অবশ্য তিন অঙ্কের দেখা পাননি। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় সীমানায় ক্যাচ দিয়ে থামেন ৫৯ রানে। তার আউটের সঙ্গে সঙ্গে ২ উইকেটে ২১৭ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া।

এরপর নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার টম ব্লানডেল ও টম ল্যাথামকে শুরুতেই ফিরিয়ে দিয়ে সফরকারীদের নাড়িয়ে দেন স্টার্ক। জিত রাভালকে দিয়ে শিকার শুরু করেন লায়ন। প্রথম ইনিংসে ফিফটি পাওয়া অভিষিক্ত গ্লেন ফিলিপসকে খুলতে দেননি রানের খাতা।

সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক স্টিভেন ফ্লেমিংকে (৭১৭২ রান) ছাড়িয়ে টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে রস টেইলরের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। এর চেয়ে এক রান বেশি করার পরই তাকে বোল্ড করে দেন প্যাট কামিন্স।

৩৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা নিউ জিল্যান্ড খানিকটা লড়াই করে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও বিজে ওয়াটলিংয়ের ব্যাটে। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে ৬৮ বলে ৫২ রান করা ডি গ্র্যান্ডহোমকে ফিরিয়ে ৬৯ রানের জুটি ভাঙেন লিঁও।

এরপর বেশিদূর এগোয়নি নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। মাটি কামড়ে পড়ে থাকা ওয়াটলিংয়ের প্রতিরোধ ভেঙে নিউজিল্যান্ডকে গুটিয়ে দেন লিঁও। ৪১৬ রান তাড়ায় ১৩৬ রানে গুটিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। পেসার মিশেল স্টার্ক নেন তিনটি উইকেট।