টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি আজ

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি আজ। অবকাঠামো, কূটনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ধরে রেখে সাফল্যের সঙ্গে দেশ পরিচালনা করে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে সরকার। গত এক দশকের মতোই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে দ্রুত অগ্রসরমাণ অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশের নাম সারা বিশ্বেই আলোচনায় ছিল। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি এই সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এর মাধ্যমে একটানা তৃতীয় মেয়াদ এবং চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ       জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে টানা ১১ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের পতাকা উড়িয়েই আজ ১১ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে স্থাপিত করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন-রেডিও এবং অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৮ বছরে সরকার পরিচালনায় অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পরপর তিনবার এবং সব মিলিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে সফলভাবে সরকার পরিচালনা করে দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করলে গত এক বছরের এ সরকারের সফলতার পাল্লাই ভারী। একটি দলের নেতৃত্বে টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠন যেকোনো বিচারে, যেকোনো দেশের জন্য নিশ্চয়ই বড়ো ঘটনা। একইভাবে মন্ত্রিসভা গঠনেও চমক দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভার ৩১ জনই নতুন মুখ। চমকপ্রদ শুরুর কারণে প্রত্যাশাও বাড়ে। ক্যাসিনো-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযান সরকার সম্পর্কে জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেয়। অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া এবং চলমান প্রকল্পের অনেকগুলোর অগ্রগতিও ভালো ছিল। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করে সরকার। গত বছর সব টেলিভিশন চ্যানেল এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সম্প্রচার শুরু করে।

অর্থনীতির প্রাণশক্তি প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত আছে, প্রবৃদ্ধি ১৮ শতাংশ। গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৩৩ কোটি ডলার। আগের বছর প্রবাসী আয় ছিল ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ডলার। অবকাঠামো খাতের মধ্যে গত এক বছরে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পগুলোর কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত অর্থবছরে ৩০ দশমিক ৬ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর অর্ধেকটা এখন দৃশ্যমান। মেট্রোরেলের জন্য নির্মিত উড়ালপথে রেললাইন বসানো শুরু হয়েছে। বিমানের বহরে বোয়িংয়ের দুটি উড়োজাহাজ যুক্ত হয়েছে। এছাড়া সরকারের আলোচিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী বিদ্যুত্ প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ ও দোহাজারী-কক্সবাজার পথে নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের গত বছর অগ্রগতি হয়েছে।

এক বছরের অর্জনের খাতায় বড়ো প্রকল্প ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি। গত ১ নভেম্বর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করে। নতুন এই আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সড়কের শৃঙ্খলার পরিপন্থি নানা অপরাধের শাস্তি ও জরিমানা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ আইনটির প্রতি সমর্থন জানালেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামেন। তাদের ধর্মঘটের মুখে সরকার আইনটি বাস্তবায়নে শিথিল অবস্থান নেয়। ক্রীড়াক্ষেত্রে এসএ গেমসে ১৯টি সোনা জিতে রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। তবে ক্রিকেট বিশ্বকাপে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। মেয়েদের ক্রিকেট আশা দেখিয়েছে গেল বছর। গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।