যে খাতগুলোয় রয়েছে বিপুল লোকবল নিয়োগের সম্ভাবনা

ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে যারা একটু চিন্তা করছেন তারা প্রায় সকলেই একটি স্থায়ী চাকরিতে নিজেকে যুক্ত করে সেই ভাবনাকে দূর করতে চান। ২০১৯ সাল জুড়েই ছিল ক্যারিয়ার গঠনের দারুণ সুযোগ। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক, সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত,  সরকারি বিভিন্ন প্রজেক্টসহ বিভিন্ন  খাতে লোকবল নিয়োগ হয়েছে প্রচুর। চলতি বছরেও এই খাতগুলোতে লোকবল নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।  বিগত বছরগুলোর আলোকে চলতি বছরে কোন কোন খাতে লোকবল নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে তা নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। বিস্তারিত লিখেছেন মাহবুব শরীফ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে  অনেক লোকবল নিয়োগ হয়েছে। চলতি বছর জুড়েও চলবে এ প্রক্রিয়া। অনেকেই বিভিন্ন দফতরে ও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীতে আবেদন করেছেন ইতোমধ্যে। কেউ কেউ আবার যোগদান করেছেন তাদের কাঙ্খিত সেই চাকরিতে। আবার কেউ কেউ যোগদান না করতে পেরে হতাশায় ভুগছেন। যারা এমন হতাশায় ভুগছেন তাদের জন্য আশার খবর হলো— চলতি বছর জুড়েও চলবে এমন নিয়োগ কার্যক্রম। আগ্রহীরা হতাশ না হয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেন।

 

সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক

বর্তমান সময়ে তরুণদের পছন্দের  যে চাকরির খাতগুলো রয়েছে তার মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরি তাদের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে। সরকারি ব্যাংক হলে তো কথাই নেই। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও রয়েছে সরকারি ব্যাংকের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। অনেকে আবার বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিকে ফ্যাশন হিসেবেও পছন্দ করছেন। যারা এখনো এই খাতে যোগদানের অপেক্ষা করছেন তারা ২০১৯ সালে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির দিকে লক্ষ্য রাখবেন। বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও জব সাইটগুলোতে নিয়োমিত ভিজিট করলে পেতে পারেন আপনার কাঙ্খিত নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। যেখানে অপেক্ষা করছে আপনার ক্যারিয়ারের আগামী।

 

সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী

বর্তমান সময়ে তরুণদের চাকরির পছন্দের তালিকায় রয়েছে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর নাম। দেশ সেবার সুযোগ, সম্মানজনক পেশা এবং রোমাঞ্চকর জীবন, এসবই একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব এখানে। এই বাহিনীগুলোতে কয়েক মাস পর পর  বিভিন্ন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। ২০১৯ সালে অনেকগুলো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অফিসার ক্যাডেট ব্যাচের জন্য নিয়োগ কার্যক্রম। পুুরুষ ও মহিলা উভয় পদে আবেদন করেছে। চলতি বছরেও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে। এই কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অবশ্যই হতে হবে অবিবাহিত এবং থাকতে হবে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শারিরীক যোগ্যতা। প্রায় নিয়োগেই দেখা যায়  প্রার্থীদের উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি চেয়ে থাকে বিজ্ঞপ্তিতে। এছাড়াও আবেদনকারীর বয়স হতে হয় ১৬.৫ বছর থেকে ২১ বছরের মধ্যে, তবে সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হলেও সমস্যা নেই। আবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

 

বাংলাদেশ পুলিশ বহিনী

২০১৮-১৯ সালে কয়েকটি ধাপে প্রায় ২৫ হাজার লোকবল নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।  চলতি বছরেও এই বাহিনীতে লোকবল নিয়োগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যারা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কাজ করে জননিরাপত্তা ও দেশসেবা করতে চান, তাদের জন্যই এমন সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় বাংলাদেশ পুলিশ। গত বছর পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগে প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নির্ধারিত সময় ও স্থানে উপস্থিত থেকে প্রথমে শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা দিতে হয়েছে। চলতি বছরে এমন কার্যক্রমের জন্যও প্রার্থীদের নির্ধারিত সময় নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হতে হবে। প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের জেলার পুলিশ সুপার কর্তৃক সরবরাহকৃত আবেদন ফরম পূরণ করে ৩ কপি সত্যায়িত ছবিসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের পাশাপাশি শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত তারিখে লিখিত পরীক্ষা অংশগ্রহণ করতে হয়। সাধারনত বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন থাকে। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদের ২০ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। উত্তীর্ণ হতে হলে উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ৪৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায়ও যোগ্য হতে হবে। সকল প্রকার যাচাই বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণের জন্য প্রার্থীগণকে মনোনীত করা হবে। পরে এসব প্রার্থীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগদানের পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পুনঃবাছাই কমিটি কর্তৃক অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর তাদের চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদানে আগ্রহীরা পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যোগ্যতার বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে পরেন। চলতি বছরে  বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পদে ব্যপক সংখ্যক লোকবল নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। 

 

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়

২০১৯ সালে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বেশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে, চলতি বছরেও সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ নিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকবে। গত বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উল্লেখযোগ্য প্রায় সকল মন্ত্রণালয়ে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেই তেমন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত না হলেও কয়েক মাসের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

তথ্যপ্রযুক্তি খাত

কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সরকার তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বেশ গুরুত্ব দিয়েছে এবং দেশে তৈরি করেছে বেশ কয়েকটি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও হাই-টেক পার্ক। এখানে প্রয়োজন হাজার হাজার লোকবলের। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও এই খাতে দেয়া হচ্ছে লোকবল নিয়োগ। হাই-টেক পার্কগুলোতে দেশের বড় বড় টেকনোলজি পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জায়গা বরাদ্দ নিয়ে শুরু করেছে তাদের উত্পাদন কার্যক্রম। প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে প্রযুক্তি পণ্যের চাহিদা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করাও শুরু করেছে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সময়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ভিজিট করলে আগ্রহীরা পাবেন আপডেট তথ্য। ডাটা এন্ট্রি বা কন্ট্রোল অপারেটর, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের বিপরীতেও দেয়া হয় নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি।  এসকল নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরাই অগ্রাধিকার পাবেন ।

ডাটা এন্ট্রি অথবা কন্ট্রোল অপারেটর পদে বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়।  বিভিন্ন কোম্পানিতে এই পদটিতে আবেদন করতে হলে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি উত্তীর্ণ হতে হবে উপস্থিত বুদ্ধিমত্তায়ও। কম্পিউটার অপারেটর পদে যারা আবেদন করতে আগ্রহী তারা পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে    সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর Operators aptitude test- এ উত্তীর্ণ হওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর পদে আবেদনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা  হিসেবে সাধারণত এইচএসসি পাস চাওয়া হয়।