হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী নাচোলের জোসনা

 

 

খা n মা n র

  একেএম জিলানী

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পাতিহাঁস পালন করে স্বাবলম্বী জোসনা খাতুন। জোসনা খাতুনের বাড়ি নাচোল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামে। সংসারে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে জোসনার পরিবার। সংসারে দুরবস্থা দূর করতে জোসনা খাতুন উপজেলা পরিষদের ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের’ থেকে  প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এবং বাড়ির একটি গরু বিক্রি করে বাড়ির পাশে গড়ে তোলেন একটি হাঁসের খামার, খামারে রয়েছে বর্তমানে ১ হাজার ৪৫০টি পাতিহাঁস।

শুরুতেই ১ হাজার ৭০০ পাতিহাঁসের বাচ্চা নিয়ে লালনপালন করতে থাকেন জোসনা খাতুন। পরামর্শ গ্রহণ করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিত্সকের কাছ থেকে। বর্তমানে প্রায় ২০০টি পাতিহাঁস বিক্রি করে ফেলেছে। বাকি ১ হাজার ৫০০টি পাতিহাঁস প্রতিদিন খাদ্য দিয়ে একবেলা মাঠে চরাতে যায় শাশুড়ি এরিনা বেগম ও ছেলে হামীম। মাঠ থেকে হাঁস নিয়ে ফিরে আসলে আবার নিয়ন্ত্রিত প্রতিশেধক খাবার দিয়ে খোয়াড়ে তোলেন। আশা করছে এবার প্রতিটির গড় মূল্য ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা হিসেবে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জোসনা খাতুন। জোসনা জানায়, প্রথমে সাড়ে ৪০০টি হাঁস তিন দিনের বাচ্চা ১৪ হাজার টাকা দিয়ে সংগ্রহ করেন। প্রায় ২০ দিন পর আরো ১ হাজার ২০০ বাচ্চা ৪২ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। মোট ৫৬ হাজার টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেন জোসনা খাতুন। সাড়ে তিন মাসের বাচ্চা গড়ে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে জোসনা খাতুনের খামারে প্রায় ১ হাজার ৪৫০টি হাঁসের বাচ্চা রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিত্সকের পরামর্শে প্রতিদিনের নিবিড় পরিচর্যা আর পরিমিত খাবার দিয়ে চলছে জোসনা খাতুন।     

নাচোল উপজেলা ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমান জানান, সদর ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামের সুমনের স্ত্রী জোসনা খাতুন একজন নিয়মিত সঞ্চয়ী। তাকে স্বাবলম্বী হবার জন্য ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এখন সে এ মৌসুমে পাতিহাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হবার আশায় বুক বেঁধেছে। তবে ১ হাজার ৪০০টি সুস্থ হাঁস বিক্রি করতে পারলেই জোসনার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন এ কর্মকর্তা। গত রবিবার বিকালে জোসনা খাতুনের এ খামার পরিদর্শনে আসেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এনএম মইনুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা।