রুবির ভিন্ন উদ্যোগ ‘পিগমেন্ট’

>> জসিম উদ্দিন

 

রাবেয়া খাতুন রুবি। একজন উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তা। শুরুতে নিজেই নিজের ড্রেস ডিজাইন করতেন। পরে ব্যবসায়ে রূপ দিয়েছেন। তার ডিজাইন করা ড্রেসের মধ্যে পেইন্টিং শুরু করেন এবং ফুটিয়ে তোলেন নানা চিত্র। এ বছরের শুরুতে তিনি তার ছোট বোন ফাতেমা খাতুনকে নিয়ে শুরু করেন ‘পিগমেন্ট’। দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি অনুষদ থেকে সদ্য পড়াশোনা শেষ করেছেন রাবেয়া খাতুন রুবি। চাকরি নয়, তার পছন্দ স্বাধীনভাবে নিজে কিছু করা। বন্ধু শহিদুল ফাহিমের সহায়তায় চার হাজার ৫০০ টাকায় শুরু করা পিগমেন্ট ক্রেতার আস্থা অর্জনের কারণে এখন হাবিপ্রবির বাইরেও পাচ্ছে বেশ সাড়া।

রাবেয়া খাতুন রুবি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার আঁকাআঁকির শখ ছিল। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি পোশাকের উপর ডিজাইন করতাম। এভাবে একটা সময় পর ফেসবুকে আমরা আমাদের ডিজাইন করা পেইন্টগুলো শেয়ার করি, তখন সবার কাছ থেকে ভালো সাড়া পাই। আমাদের কনজারভেটিভ পরিবার হওয়ায় আব্বুু আঁকাআঁকি পছন্দ করতেন না। বিশেষ করে প্রাণীদের ছবি আঁকা। তখন অনেক বুঝিয়ে প্রাণীদের ছবি আঁকা হবে না বলে আশ্বস্ত করি।’

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার বাবা ও গৃহিণী মা প্রথমে পড়াশোনায় ক্ষতি হবে ভেবে বকাবকি করলেও বর্তমানে তাদের কাজের ভালো সফলতায় তারা খুব খুশি। কাজ করতে গিয়ে অনেক উত্সাহ পেয়েছেন ছোট বোন ফাতেমা খাতুনের। ফাতেমারও পেইন্টিংয়ের হাত ভালো, আর তার প্রচণ্ড আগ্রহ থাকায় অনুপ্রেরণা পায় রুবিও। বর্তমানে তারা দুই বোন মিলেই তাদের পিগমেন্ট চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ব্যবসায় ছোট বোন ফাতেমা খাতুন করেন পেইন্টিং, অর্থাত্ আঁকাআঁকির কাজ। আর ফাতেমা খাতুন রুবি করেন সিল দেওয়া, নকশা করা, ফেসবুকে পেইন্ট শেয়ার করা ও মার্কেটিংয়ের কাজ। তাদের দেখে এই কাজে উত্সাহিত হচ্ছেন আশপাশের অনেকেই। তাদের কাছেও মিলছে অনেক সহায়তা।

শুরুতে নিজেই নিজের ড্রেস ডিজাইন করতেন উদ্যোক্তা রুবি। সবাই তার ডিজাইন করা ড্রেসগুলো পছন্দ করতেন। যেহেতু আর্টস এবং ক্রাফটিং তার পছন্দের বিষয় ছিল, তাই পছন্দের বিষয়গুলোকেই ব্যবসায়ে রূপ দিয়েছেন। তার ডিজাইন করা ড্রেসের মধ্যে পেইন্টিং শুরু করেন এবং ফুটিয়ে তুলেন নানান চিত্র। এক্সেলিক রঙে নিখুঁত পেইন্টিং করতে পারা রুবির করা ক্যানভাস ততদিনে পেন্সিল এক্সিবিশন ও ফ্রেমে বাঁধা স্বপ্ন-দ্বিতীয় প্রহরে জায়গা পেয়েছে। ৩৫/৪০টি পেইন্টিং বিক্রির পর আশপাশের মানুষ জনের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা থেকে এ বছরের ৩১ মার্চ একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু পিগমেন্ট।

এখানে মেটালিক গয়না (নূপুর, মালা, চাবির রিং, চুড়ি), ক্যানভাস, কাঠের গয়নাসহ (পায়েল, মালা, আংটি, হিজাব পিন, চাবির রিং, চুড়ি) বিভিন্ন ধরনের পণ্যে নিপুণ হাতের রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন বিভিন্ন মোটিফ।