সুমনের ‘বন-কাগজ’ থেকে উত্পাদিত হবে গাছ

>> মামুনুর রশিদ রাজিব

 

নিত্যকার প্রয়োজনে আমরা অনেক কাগজের ব্যবহার করছি, যেমন :ভিজিটিং কার্ড, ইনভাইটেশন কার্ড বা আমন্ত্রণপত্র, বুকমার্কসহ বিভিন্ন ধরনের কাগজ। আবার সাময়িক সময়ের প্রয়োজন শেষে এই কাগজগুলোই আমরা ফেলে দিই ময়লা হিসেবে। কিন্তু যদি এই ময়লা হিসেবে ফেলে দেওয়া কাগজ থেকেই বের হতে দেখি বিভিন্ন ধরনের ফুল কিংবা শাক-সবজি গাছ তাহলে নিশ্চয় অবাক হবেন। কিন্তু এই অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার আবিষ্কার করে বসেছেন নারায়ণগঞ্জের মাহবুব সুমন। তার বিশেষভাবে তৈরিকৃত এই কাগজের নাম দিয়েছেন ‘বন-কাগজ’। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়া শেষ করে চাকরি করলেও একসময় চাকরি ছেড়ে দিয়ে মনোনিবেশ করেন তার এই গবেষণার কাজে। শুধু তাই নয়, প্রায় এক বছর আগে শুরু করা তার এই অনন্য উদ্যোগ ধীরে ধীরে সফলতার পথ ধরে এগোতে শুরু করেছে। এই কাজের জন্য তিনি কাঁচামাল হিসেবে যা ব্যবহার করছেন, সেগুলোও একপ্রকার পরিত্যক্ত কাগজই বলা যায়। যেমন :স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের ব্যবহূত পুরাতন বই-খাতা, ব্যবহূত পত্র-পত্রিকার কাগজ ইত্যাদি। এই পুরাতন কাগজ থেকেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় সাধারণ কিছু যন্ত্রের সাহায্যেই তৈরি করেন তার এই বিশেষ কাগজের মণ্ড এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই মণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফুল এবং শাক-সবজির বীজ মিশিয়েই তৈরি করছেন বন-কাগজ। আর ব্যবহারের পর এই কাগজ টবে কিংবা মাটিতে ফেললেই কাগজ পচে দশ-বারো দিনের মধ্যে মাটি থেকে বেরিয়ে আসবে শাক-সবজি কিংবা ফুলের চারা গাছ।

কথা হয় এই বন-কাগজের উদ্যোক্তা মাহবুব সুমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের শালবৃক্ষ নামের একটা প্রতিষ্ঠান আছে। যার মাধ্যমে আমরা সোলার সিস্টেম, নবায়নযোগ্য শক্তিসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব বিষয় নিয়ে কাজ করি। প্রায় এক বছর আগে যখন আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড বানানোর কথা চিন্তা করছিলাম, তখন ভাবলাম ব্যতিক্রমী কোনো পথ অবলম্বন করলে কেমন হয়? এদিকে দেশে তখন সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলন চলছে? পরিবেশ তথা সুন্দরবন রক্ষার এই আন্দোলনের কথা চিন্তা করেই মাথায় এলো পরিবেশবান্ধব কিছু করার। ভাবলাম আমরা নিত্য যেসব কাগজ ব্যবহার করছি, তার বেশিরভাগই সাময়িক সময়ের জন্য, অর্থাত্ নির্দিষ্ট একটা সময় পর সেই কাগজগুলো পরিত্যক্ত হিসেবে ফেলে দিচ্ছি ময়লার স্তূপে। যার মধ্যে ভিজিটিং কার্ডও উল্লেখযোগ্য। তাই ভাবলাম, আমাদের ভিজিটিং কার্ড যেন মানুষ নির্দিষ্ট সময় পর ময়লা হিসেবে ফেলে না দিয়ে বরং পরিবেশবান্ধব কাজে লাগাতে পারে। এই চিন্তা-ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া। এতে একদিকে যেমন ময়লা আবর্জনা থেকে দেশ রক্ষা পাবে, তেমনি অন্যদিকে মানুষ পরিবেশবান্ধব কিছু ফুল এবং শাক-সবজির গাছ পাবে।’

আপাতত মরিচ, টমেটো, লালশাক, ডাটাশাক, পেঁয়াজ, কসমস, মোরগফুলসহ আরো অল্প কিছু গাছের বীজ ব্যবহার করলেও ভবিষ্যতে আরো বিভিন্ন গাছের বীজ যুক্ত করবেন। সেই সঙ্গে এই কাগজের ব্যবহারের পরিধিও বাড়াবেন। তবে, প্রাথমিকভাবে এই কাগজ উত্পাদনে খরচ একটু বেশি হলেও উত্পাদনের পরিমাণ বাড়লে খরচ কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন। ইতিমধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবিশেষ পরীক্ষামূলকভাবে তাদের এই বন-কাগজে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের জন্য অর্ডার করছে।